সাতক্ষীরার সবুজ মাল্টায় সম্ভাবনা

সাতক্ষীরার সবুজ মাল্টায় সম্ভাবনা

সাতক্ষীরার সবুজ মাল্টায় সম্ভাবনা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: একসময় বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে চাষ হতো মাল্টার। কিন্তু বর্তমানে ফলটি আর পাহাড়ে সীমাবদ্ধ নেই, দেশের সমতল ভূমিতেও সবুজ মাল্টা (বারি-১) জাতের চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষকরা, পাচ্ছেন লাভও। কৃষকরা বলছেন, পানি ও মাটি লবণাক্ত হওয়ায় সাতক্ষীরার মাল্টায় মিষ্টতা বেশি। প্রতিটি গাছ বেঁচে থাকে ৪০ থেকে ৪৫ বছর। কোনো রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই সাতক্ষীরার উৎপাদিত মাল্টার বাজার মূল্য ও চাহিদা বেশি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ছনকা গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম খোকন গত তিন বছর ধরে মাল্টার চাষ করছেন। ১১ বিঘা জমির ওপর তার বাগানের প্রতিটি গাছে ৭০ থেকে ৮০ কেজি মাল্টা হয়ে থাকে। গাছের বয়স ৫ বছরের বেশি হলে প্রায় তিন মণ মাল্টা পাওয়া যায়। এতে পোকামাকড়ের তেমন কোনো উপদ্রব নেই। দেশি বাতাবি লেবুর গাছে কলম বেঁধে তিনি মাল্টা গাছের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন। এজন্য মাল্টা গাছের বয়সও হয় ৪০ থেকে ৪৫ বছর।

তিনি জানান, তার দেখাদেখি সাতক্ষীরায় এখন ৩০/৩৫ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করছেন কৃষকরা। তার কাছে এখনও ১২ হাজার মাল্টা চারার অর্ডার রয়েছে। দেশে যখন মাল্টা বাজারে উঠতে শুরু করে, তখন বিদেশ থেকে মাল্টা আমদানি বন্ধ রাখার দাবি জানান তিনি। এতে দেশে উৎপাদিত মাল্টা আরও বেশি বাজার পাবে।

মাল্টা চাষি সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘রাঙ্গামাটি গিয়ে মাল্টার চাষ দেখে আগ্রহী হই। মাল্টা যাতে বিদেশ থেকে আমদানি না করতে হয় সেজন্য দেশের চাহিদা মেটানোই আমার লক্ষ্য। কোনোপ্রকার রাসায়নিক ছাড়াই উৎপাদিত গ্রিন মাল্টা খুবই মিষ্টি। এখানকার পানি ও মাটি লবণাক্ত হওয়ায় এর মিষ্টতা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে মাল্টার গাছে ফুল আসে। আগস্টে মাল্টা পূর্ণতা লাভ করলে শুরু হয় বেচাকেনা। বছরের বাকি সময় ধরে গাছের পরিচর্যা করতে হয়। জৈব সার দিতে হয়।

মাল্টা চাষি শামছুর রহমান কলারোয়া উপজেলার উলুডাঙ্গা গ্রামে সর্বপ্রথম ২০১৬ সালে তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করেন। সঠিক পরিচর্যা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে এখন গাছে গাছে ধরেছে কাঙ্ক্ষিত ফল। বর্তমানে তার সাড়ে ৪০০ গাছে মাল্টা ধরেছে, যা জেলার বিভিন্ন বাজারে ও ঢাকাসহ আশপাশের জেলাতে পাঠানো হচ্ছে। অনান্য ফসলের তুলনায় মাল্টা চাষে খরচ কম ও লাভ বেশি বলেও জানান সফল এই মাল্টা চাষি।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় এ বছর ১৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। সাতক্ষীরার মাল্টা খুবই মিষ্টি। আমরা চাষিদের মাল্টা চাষে উৎসাহিত করছি।’ তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *