২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সবাই মিলে দমন করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সবাই মিলে দমন করতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, “যে অপশক্তি আমাদের মাঝেমধ্যে সাম্প্রদায়িক বানাতে চায়, ফনা তুলে ছোবল মারতে চায়; সেই অপশক্তিকে সবাই মিলে দমন করতে হবে। তাহলে যে চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে, সেই ভিত আরও মজবুত করতে পারবো।”

রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত “শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা মহালয়া উৎসবে” তিনি এসব কথা বলেন।

গুলশান-বনানীতে ২০০৮ সাল থেকে পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে পূজা হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। যেকোনো ধর্ম সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। সে কারণে আমি ধর্ম নিয়ে আলোচনায় যাবো না। তবে সব ধর্মে মর্মবাণী যে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন, সমৃদ্ধি স্থাপন এবং মানুষের কল্যাণ, সেটুকু আমি জানি।”

সকল ধর্মই মানুষের মাঝে সম্প্রীতি স্থাপনের কথা বলে-উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা যদি ধর্মের এই মূল মর্মবাণীকে ধারণ করে অনুশীলন করতাম, তাহলে পৃথিবী অনেক শান্তিময় হতো। ধর্মের ভিত্তিতে হানাহানি কখনও থাকতো না।”

হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবার সম্মিলিত সংগ্রাম ও রক্তস্রোতের বিনিময়ে আমাদের এই দেশ রচিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আমরা সবাই লড়াই করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার চেতনার বেদিমূলে আঘাত আনা হয়েছে, চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই রাষ্ট্রকে আবার সাম্প্রতিক রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা কিছুটা সফলও হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এই রাষ্ট্রকে সাম্প্রতিক বানাতে চায়, হানাহানি ও সাম্প্রতিক বিষবাষ্প ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে সরকার সব সময় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। তারপরেও দেশে একটি রাজনৈতিক পক্ষ আছে, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আছে, যারা সাম্প্রতিকতা নিয়ে অপরাজনীতি করে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

দেশে প্রতিবছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়ার কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, “দুটি কারণে এমনটি হচ্ছে। একটি মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে। অন্যটি হলো মানুষের সামর্থ বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকার আপনাদের পাশে আছে। গত বছর বিভিন্ন জায়গায় গোণ্ডগোল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে, এটি উৎসাহ ব্যাঞ্জক। এবার আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে বলে আশা করি।”

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com