সাম্য মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের ঈদ

সাম্য মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের ঈদ

সাম্য মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের ঈদ

মুফতী তামীমুল ইসলাম ফরিদী ❑ মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। ঈদ সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে সব মানুষকে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের মহীমান্বিত আহ্বানে শান্তি-সুধায় ভরে উঠুক প্রতিটি মানুষের হৃদয়।

হাবিবে কিবরিয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসের পাকে ইরশাদ করেছেন, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি হচ্ছে ইফতারের (রোজা থেকে অব্যহতি অর্থাৎ ঈদের দিন) সময় আরেকটি হচ্ছে রাব্বি কারীমের সাথে সাক্ষাতের সময়।(মেশকাত)

বস্তুত হাদীসে উল্লেখিত দুটি আনন্দের একটি হচ্ছে দুনিয়াতেই পাওয়া যায় যেটা ঈদের দিন ও ইফতারের সময়কে ধরা হয়েছে। আরেকটি আখেরাতের জন্য আল্লাহ তাআলা খাস করে রেখেছেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর কে উপলক্ষ করে আমাদের জন্য শরীয়াহর আলোকে কিছু নির্দেশনা রয়েছে। যেমন ঈদের রাত্রিতে ইবাদাতের ফজিলত সম্পর্কে হাবিবে কিবরিয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে “তিনি বলেছেন যারা ঈদের রাত্রিতে জাগরন করে যেদিন সমস্ত হৃদয় মারা যাবে সেদিন এই রাত্রিতে জাগরণকারী হৃদয় গুলো জীবিত থাকবে। (মেশকাত)

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন ফিতরা দ্বারা রোজার ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন।

ঈদুল ফিতরের দিনে ফিতরা আদায় করাও ঈদুল ফিতরের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ আমল।আমাদের যাদের উপরে ফিতরা ওয়াজিব হয়েছে অবশ্যই ফিতরা আদায় করা এবং যাদের উপরে ওয়াজিব নেই কিন্তু আমাদের সামর্থ্য আছে তাদের জন্য ও ফিতরা আদায় করা চাই। আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন ফিতরা দ্বারা রোজার ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন। বিপদ-আপদ বালা-মুসিবত থেকে আপন বান্দাকে হেফাজত করেন।

ঈদের দিনের আরেকটি আমল হচ্ছে ঈদের সালাত আদায় করা।মৌলিকভাবে জুমার নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য যে সমস্ত শর্ত গুলো রয়েছে ঈদের নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য সে শর্ত গুলি প্রযোজ্য। তবে জুমার নামাজ জুমা মসজিদে হওয়া চাই । আর ঈদের নামাজ মাঠে আদায় করা প্রিয় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত। তবে এবারের বিষয়টি একটু ভিন্ন ভাবে আমাদেরকে ভাবতে হবে। করোনার এই বৈশ্বিক বিপর্যয় রোধে দেশের প্রাজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম, পরহেজগার স্বাস্থ্যবিদ ও সরকারের সমন্বিত নির্দেশনার আলোকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে যথানিয়মে আদায় করা চাই।

ঈদ অর্থ খুশি, কিন্তু এই খুশির আবেশে আমাদের জীবন প্রবাহ যেন হারিয়ে না যায় করোনা ভাইরাসের এই করালগ্রাসে। বিশ্ব পরিক্রমায় করোনা প্রাদুর্ভাবে মানুষ আজকে ঈদের পরিপূর্ণ আনন্দ উপভোগ করতে পারছে না। জীবিকার তাগিদে মানুষ জীবনকে বিসর্জন দিচ্ছে। ঈদের এই দিনে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, হতদরিদ্র ও ধনী সবাই যাতে অনাবিল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে এই কামনা করছি। সকল বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মত নির্বিশেষে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসলেই স্বার্থক হবে আমাদের এই ঈদ। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে হাত মেলানো, কোলাকোলি না করে লম্বা সালামের সাহায্যে আমরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিয়ম করতে পারি। আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে সব রকমের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করুন,আমীন।

লেখক: মুহতামিম ও সুবক্তা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *