সাল্লু আলাইহি ওআলিহি
মুহাম্মদ আইয়ূব ❑ আল্লাহর রহমতে তারাই ভিজতে পারে যারা তাঁকে খুশি করতে পারে। আল্লাহকে খুশি করার অনেক মাধ্যম আছে। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে মহানবী সাঃ এর উপর দুরূদ পাঠ করা। এতে আল্লাহ তাআ’লা ভীষণ খুশি হন।রাসূল প্রেমে আল্লাহকে খুশি করে বিস্ময়কর সাফল্য যারা এনেছেন তাঁদের শীর্ষ স্থান দখলকারীদের অন্যতম হযরত সাহাবায়ে কেরাম (রিযওয়ানুল্লাহি আ’লাহিম আজমাঈ’ন)। তাঁরা আল্লাহকে খুশি করে সাফল্যের এমন চূড়ায় আরোহন করেছেন যে, আল্লাহ পাক তাঁদের বেলায় ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন, ‘আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট, তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ,আল্লাহর দলই সফলকাম হবে।’ {সূরা মুজাদালা, আয়াত নং ২২}
আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে মর্যাদার এই আসনে অধিষ্ঠিত কেন করলেন এটাই তো প্রশ্ন?
শুনুন তাহলে। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) নবীজিকে নিজেদের জীবন, জান- মাল, স্ত্রী, পুত্র, সন্তান সন্ততি থেকে লক্ষ কোটি গুন বেশি ভালবাসতেন। সীরাত পাঠ করলেই বুঝতে পারবেন নবীজির জন্য সাহাবীদের প্রাণোৎসর্গের জীবন্ত সব দাস্তান! মহানবীকে (সাঃ) সীমাহীন ভালবাসার জন্যই মূলতঃ তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছিলেন এই বিরল সম্মাননা। সুতরাং আজকের যুগে, এই সময়ে কারো যদি মন চায় আল্লাহ তাআ’লার প্রিয় পাত্র হতে, এই সম্মানে ভূষিত হতে তাহলে তার জন্য সহজ রাস্তা নবীর উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করা। আর ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে রহমত, মাগফেরাত, নাজাতের মাস রমজান। সুতরাং এই রমজানে উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে আল্লাহর কাছে প্রিয় পাত্র হতে দুরূদ শরীফ হতে পারে আমাদের নিত্য সঙ্গী।
দুরূদ পাঠের গুরুত্ব:
১। আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দুরূদ পাঠান। হে মুমিনরা! তোমরাও নবীর উপর দুরূদ পাঠ কর এবং তাঁর প্রতি সালাম পেশ কর ও তাঁর নির্দেশের অনুগত হও। {সুরা আহযাব,আয়াত নং ৫৬}
২। হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলেন, দোআ’ আসমান ও যমিনের মাঝখানে থেমে যায়, উপরে যেতে পারেনা যে পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর উপর দুরূদ প্রেরণ না করা হয়। [তিরমিযি]
দুরূদ পাঠের ফযিলত:
১। হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যে আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তার উপর দশ বার রহমত বর্ষণ করবেন, দশটি গুনাহ মাফ করবেন এবং তার মর্যাদা দশে বৃদ্ধি করে দিবেন। [ নাসাঈ শরীফ, হাদিস নং ১২৯৬]
২। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলে কারিম সাঃ বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তি আমার বেশি নিকটবর্তী হবে যে আমার উপর অধিক পরিমাণে দুরূদ পাঠ করেছে।’ [নাতাইজুল আফকার,খন্ড -৩ পৃষ্ঠা নং- ২৯৫]
পরিশেষে সবার কাছে একটাই নিবেদন, মহিমান্বিত মাস রমজানুল মুবারকের প্রতিটি দিন, প্রতি মুহুর্ত কাটুক নবীজির উপর দুরূদ পাঠের মধ্য দিয়ে। এই আশায়, এই প্রত্যাশায় আজ এখানেই শেষ।
লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


