পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সিরিয়ার মানবিজ শহরে বোমা বিস্ফোরণে দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর অন্তত চার সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বুধবার বিকেলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি সেনা টহলের কাছে বোমা বিস্ফোরিণের ঘটনা ঘটে। হামলায় ১৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
এ ঘটনায় একজন সাধারণ পথচারীরও মৃত্যু হয়েছে। ২০১৫ সালে সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের পর এটিই তাদের ওপর সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা।বুধবার মানবিজ শহরে মার্কিন বাহিনীর টহল চলাকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
মার্কিন কর্মকর্তার বরাত রয়টার্স জানিয়েছে, সেনাদের নিয়মিত টহলের সময় তারা বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। ইরাক ও সিরিয়ায় অভিযান চালানোর দায়িত্বে নিয়োজিত মার্কিন দপ্তর এর আগে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনো তথ্য সংগ্রহ করছি এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’
এদিকে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, বোমা বিস্ফোরণে নিহতদের নয়জন বেসামরিক ব্যক্তি। বাকিরা সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস বা এসডিএফর সদস্য। মানবিজ শহরের কেন্দ্রস্থলে আল-উমারা রেস্টুরেন্টের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ।
সম্প্রতি সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই সিরিয়া থেকে সেনা সরানোর কাজ শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে যে মানবিজ শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে ২০১৬ সাল থেকে সেটি নিয়ন্ত্রণ করছে সিরিয়ার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সশস্ত্র কুর্দি বিদ্রোহীরা। এমন এক সময়ে এ বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো যখন সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি। টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সিরিয়ায় আইএস-কে পরাজিত করেছি। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে শুধু আইএসকে হটানোর জন্যই তাদের সেখানে (সিরিয়া) রাখা হয়েছিল।’ তবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা প্রবল।
এরইমধ্যে বুধবারের এ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। নিজেদের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে এ দায় স্বীকার করে তারা। এতে বলা হয়, বিদেশি বাহিনীর টহলকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।


