স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব আসুক : রাষ্ট্রপতি

স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব আসুক : রাষ্ট্রপতি

 

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে তৈরিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে স্কাউট নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক, প্রগতিশীল ও সৃজনশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে স্কাউটিং কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্কাউটেরা হলো চেঞ্জ মেকার।’

০৫ নভেম্বর সোমবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্কাউটস-এর জাতীয় কাউন্সিলের ৪৭ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সাধারণ সভায় রাষ্ট্রপতি ও চিফ স্কাউট আবদুল হামিদ বলেন, ‘সমাজে স্বার্থপরতা, হিংসা, লোভ ও নৈতিকতার অবক্ষয় শিশু-কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের স্বাভাবিক প্রকৃত শিক্ষা বিনষ্ট হচ্ছে। তাদের কোমল মনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ শিক্ষা তাদের ভেতরেও গেঁথে যায়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও প্রযুক্তির অপব্যবহারও তরুণদের বিপথে পরিচালিত করতে ভূমিকা রাখছে। এতে অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা অকালে ঝরে যাচ্ছে। যারা বাংলাদেশের এক অমূল্য সম্পদ। এদের মাধ্যমেই আমাদের দেশ উন্নতি ও সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবার কথা ছিলো। কিন্তু তারা ভ্রান্তির শিক্ষা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে তরুণদের মুক্ত রেখে তাদের মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্কাউট আন্দোলন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’ তিনি নতুন প্রজন্মকে আদর্শ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পাড়া, মহল্লাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিভিত্তিক স্কাউটিং চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব জায়গাগুলোই এদের স্বাভাবিক চলাফেরার স্থান। এখান থেকেই তারা প্রধান বিষয়গুলো শিখবে। তাই এসব জায়গাগুলোয় স্কাউটিং চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপ্রতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের “সোনার বাংলা”-কে আধুনিক বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তির ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিশু-কিশোর ও যুবদের নৈতিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘পরোপকারী ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে একজন স্কাউট সকলের স্নেহ ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারে। লেখাপড়ার পাশাপাশি স্কাউটরা দুর্যোগকালীন দ্রুত সাড়াদান, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করণে অবদান এবং জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্যাম্প, স্যানিটেশন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষার মতো বিভিন্ন সমাজ গঠনমূলক কাজে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।’

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘স্কাউটরা যাতে মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারে স্কাউট নেতৃবৃন্দকে সে লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের বর্তমান সদস্য ১৭ লাখ থেকে ২১ লাখে উন্নীত করতে বাংলাদেশ স্কাউটস ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান-২০২১’ বাস্তবায়ন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে স্কাউট আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন স্কাউট পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রেসিডেন্ট মো. আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার এম মোজাম্মেল হক খান এবং স্কাউটস নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *