হজ হোক গোনাহ মুক্ত
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : এসে গেল হজের দিন। আজ সৌদি আরবে জিলহজ্জের তিন তারিখ। ৯ জিলহজ্জ ইয়াওমে আরাফা। হজ্জের দিন। সে মোতাবেক ইংরেজী ১০ আগস্ট শনিবার হজ্জের দিন ধার্য করা হয়েছে।
দলে দলে আল্লাহর মেহমান জমা হচ্ছেন মক্কা মোকাররমায়। সারা বিশ্বের প্রায় সব দেশের মুসলমান শরীক হন এই হজ্জে। আমাদের বাংলাদেশ থেকে এক লক্ষ সাতাশ হাজার হজ্জযাত্রী পবিত্র হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্য যাচ্ছেন। প্রায় অধিকাংশ হাজি এখন সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বাকি হাজি সাহেবান দু এক দিনের মধ্যে সেখানে হাজির হবেন।
হজ্জের সফর অনেক মোবারক সফর। অনেক অনেক ফজীলত রয়েছে এই হজ্জে। তবে হজ্জের ফযীলত পেতে হলে এবং হজ্জে মাবরুর পেতে হলে কিছু শর্ত-শরায়েত রয়েছে। যে গুলো সকল হাজি সাহেবানদের মেনে চলা খুবই জরুরি।
হজ্জে মাবরুর বা কবুল হজ্জ পেতে হলে, হাজি সাহেবকে গোনাহ মুক্ত থাকতে হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ফামান ফারাদা ফি হিন্নাল হাজ্জা ফালা রফাছা ওয়ালা ফুসুকা ওয়ালা জিদালা ফিল হাজ্জ।
যে ব্যক্তি হজ্জ পালনের ইরাদা করে, সে যেন সফরে কোন গোনাহের কাজ না করে, এমনকি কারো সাথে ঝগড়া- ঝাটি যেন করে না।
এজন্য হজ্জের সফর গোনাহ মুক্ত থাকা চাই। আল্লাহ তায়ালা যেখানে গোনাহ করতে নিষেধ করেছেন, সেখানে গোনাহের কাজ থেকে একদম দুরে থাকতে হবে। কোন প্রকার গোনাহ করা যাবে না।
হজ্জের সফরে বিভিন্ন গোনাহ হওয়ার সম্ভবনা থাকে। একটা ভিন দেশে ভিন্ন পরিবেশের সফর। এক সঙ্গে অনেক মানুষ চলাফেরা উঠা বসা করতে হয়, এ কারণে বিভিন্ন সময় গোনাহ হয়ে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়ে যায়। তাছাড়া এক সঙ্গে চলতে গেলে কখনো কখনো হাজি সাহেব গণ আপসে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন।
মহান আল্লাহ তায়ালা এ কারণে বলে দিয়েছেন, হজ্জের সফরে কোন গোনাহ করবে না, এমনকি ঝগড়াও করবে না।
এখানে ঝগড়া কে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন, কেননা ঝগড়া হওয়ার অনেক পরিবেশ সৃষ্টি হয় সফরে। এমতবস্থায় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কারো সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। একেবারে সকল গোনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে।
হাদীস শরীফে গোনাহ মুক্ত হজ্জের ফজীলত বর্ননা করা হয়েছে, মান হাজ্জা লিল্লাহ ফালাম ইয়ারফুছ ওয়ালাম ইয়াফছুক…।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে হজ্জ করল এবং হজ্জের সফরে কোন গোনাহের কাজ করল না, সে যেন নিস্পাপ হয়ে বাড়ী ফিরে আসল, এরকম অবস্থা যে, এই মাত্র তার মা তাকে প্রসব করেছে।
গোনাহ মুক্ত হজ্জ করলে মানুষ নিস্পাপ হয়ে যায়। তার যেন আর কোন গোনাহ থাকে না। গোনাহ মুক্ত হজ্জ করতে পারলে তার হজ্জ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। মানে হজ্জে মাবরুর তার নসিবে জুটে যায়।
অন্য হাদীসে রয়েছে, আল হাজ্জুল মাবরুর, লাইছা লাহু যাজায়ুন ইল্লাল জান্নাহ, হজ্জে মাবরুর এর প্রতিদান জান্নাত।
হাজি সাহেবানদের খেদমতে আরজ, আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহে আমরা মক্কা মোকাররমায় পৌঁছেছি। হজ্জ করার ইরাদা নিয়ে নিজের দেশ, নিজের আত্মীয়- স্বজন, ছেলে- মেয়ে, স্ত্রী ত্যাগ করে এই পবিত্র ভুমিতে আসার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে। সুতরাং এটাকে অনেক বড় নেয়ামত মনে করতে হবে। হজ্জের আহকাম গুলো গুরুত্ব সহকারে আদায় করা চাই। সেই সাথে এই সফরে গোনাহ থেকে দুরে থাকার সংকল্প করা চাই। আমাদেরকে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হতে হবে, আমরা আর কোন গোনাহ করব না। গোনাহ মুক্ত হজ্জ করব ইনশাআল্লাহ।
হে আল্লাহ! তুমি সকল হাজি সাহেববানকে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দাও। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


