হাই প্রেসার | মুহাম্মাদ আইয়ুব
– হুজুরকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে?
– জাভেদ তুমি ব্যপারটা ধরতে পেরেছ।
– কিসের টেনশন হুজুর?
– তুমি তো জান আমি কত ফেমাস একজন মানুষ, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কে আমাকে চিনেনা?দেশের বাহির থেকে প্রবাসী ভাইয়েরা ও ফোন দেয় মাহফিলের জন্য, কিন্তু আমার সময় নাই! অথচ ইউটিউবে আমার ওয়াজের ভিউয়ারের যে সংখ্যা তা মুখে আনা যায় না! আমার ধর্মীয় চ্যানেলটাকে কেউ সাবস্ক্রাইব করতে চায় না, কিন্তু ‘টম এ্যান্ড জেরি’ ‘মটু পাতলু’ ‘লুলু কিডস’ ‘গান বাজনা’ ‘ছায়াছবি’ ‘রেসলিং’ আরো যত্তসব হাবিজাবি চ্যানেলের ভিউয়ার, সাবস্ক্রাইবার শত কোটি! কেয়ামতের তো দেখছি আর দেরি নাই কি বল জাভেদ?!
– ঠিকই বলছেন হুজুর!
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে না ‘রতনে রতন চিনে শুয়োর চিনে কচু’ আপনার বেলায় এটাই ঘটছে আর কিছু না। নইলে আপনার যে সুপার বয়ান তা এদেশের কয়জন জানে?!
– রতনরাও তো আমাকে চিনল না! আমার স্বজাতির সংখ্যা তো কম নয় তারা তো ইচ্ছা করলে আমাকে উপরে তুলতে পারে? জগত বড় অচেনা বুঝলা জাবেদ?
– জি হুজুর! আসলেই আপনার বয়ান, আপনার অভিনয়, মাদ্রাসার ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দেশময় ঘুরঘুর, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লং ড্রাইভ এ সবের পরও যদি কিছু ভিউয়ার আর সাবস্ক্রাইবার কপালে না জুটে তাহলে খুবই মন্দ কথা।
কথাগুলো সরাসরি হুজুরকে বললে হয়ত তিনি স্বান্তনা পেতেন। কিন্তু সব কথা সবখানে সবাইকে বলতে নেই।
-জাভেদ! তুমিই বল, এই জাতী আমার সাথে, আমার ভিডিওর সাথে, আমার চ্যানেলের সাথে কি ন্যায় বিচার করেছে?
– স্বপ্নে ও না!
– আমি যদি ভাইরালই না হতে পারি তাহলে ইসলামের প্রচার হবে কিভাবে? মানুষ তো ইসলাম বিমুখ হয়ে পড়বে! ইসলামকে গালি দিবে!! নাস্তিক হয়ে যাবে!!! এই জাতীর ভবিষ্যৎ তো অন্ধকার এই টেনশনে কি নাওয়া, খাওয়া, ঘুম হয় বল?
‘নুন খেয়ে গুণ না গাইলে’ খুব খারাপ হয় তাই। জাভেদ ভাবে আর চুপ করে থাকা যায় না হুজুরকে ভাইরাল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া দরকার।
– তাহলে হুজুর, এক কাজ করা যায় না?
– যেমন?!
– আপনার ওয়াজের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য আপনি বোধহয় আরো দুইতিনটি চ্যানেল খুলতে পারেন। তারপর আপনার আপলোড করা ভিডিওর প্রোফাইলে আকর্ষণীয় শিরোনাম ও ছবি সেঁটে দিন। যেমন, ‘জান্নাতের টিকিট এখানে’। ‘সংসারে আগুন…….? ‘কুরআন হাদিসের আলোকে রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হওয়ার আমল’। ‘যেভাবে বিখ্যাত হবেন’ ইত্যাদি ইত্যাদি।
ভাইরাল হওয়ার জন্য উদ্ভট কিছু কথা বার্তা অবশ্যই বাজারে ছাড়তে হবে! ওয়াজের প্যান্ডেলে স্বজাতীর বিরুদ্ধে মিথ্যা,গীবত সব ঝেড়ে কেশে উগরে দিতে হবে। মায়ের ওয়াজে কান্নার পাকা অভিনয় করতে হবে। যত্রতত্র জিহাদ ঘোষণা করে হুংকার দিতে হবে। প্রয়োজনে বয়ানের সময় সামনে থাকা টেবিল, মাইক্রোফোন লাথি দিয়ে ফেলে দিতে হবে। শরম লজ্জা ভেঙে বয়ানের মঞ্চে ‘মধু হই হই’ মার্কা কয়েকটা গান মুখস্থ করে ভাটিয়ালি সুরে টান দিতে হবে। আপনার কন্ঠ খুবই ভালো, সুতরাং মক্কা মদিনার সুরে গলা ফাটিয়ে আজান দিলে অসাধারণ কিছু হবে নিশ্চয়ই।
তা ছাড়া যে সব কাহিনী আদৌ ঘটেনি বা ভবিষ্যতে ঘটবে কিনা সন্দেহ আছে এমন ঘটনা এভাবে বর্ণনা করুন যেন আপনার সামনেই এটা ঘটেছিল। তাহলেই দেখবেন ভাইরাল কাকে বলে?
– সত্যি বলছ জাভেদ?!
– হুজুর! এগুলো হচ্ছে রাতারাতি ভাইরাল হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন টিপস।
– কিন্তু এর কিছুইতো ইসলাম সমর্থন করে না।
– ইসলাম সমর্থন করলে করুক না করলে না করুক আপনার কি যায় আসে? আপনার দরকার ভাইরাল হওয়া ব্যস! ভাইরাল হলেই তো আপনার কেল্লা ফতে, ইসলাম দিয়ে আপনার কি যায় আসে?
একবার ভাইরাল হয়ে তারপর না হয় ওসব ছেড়ে দিলেন।
জাভেদ ঠোটের আগায় সরাসরি চলে আসতে চায়, আর যদি ইসলামের জন্য এতো মায়া লাগে তাহলে ভাইরাল হওয়ার চিন্তা কেন হুজুর?! আল্লাহর জন্যই বয়ান করুন আল্লাহ পাকই আপনাকে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল করে দিবেন, কিন্তু সে পারে না। এই দুঃখের দিনে যদি ড্রাইভারির মতন হারামি মার্কা চাকরিটা চলে যায়?!


