৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

হাওরাঞ্চলের কৃষককে ঋণের বোঝা থেকে বাঁচান

মাসউদুল কাদির ● ঋণ মানুষকে বাঁচানোর জন্য। বিপদে ফেলার জন্য নয়। দেশে হাজার হাজার এনজিওকেও কাজের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু হাওরাঞ্চলের দুর্গত কৃষকদের বাঁচা নিয়েই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। আকস্মিক বন্যায় বাঁধ ভেঙে ফসল, হাঁস-মাছ, গবাদিপশুসহ সব হারিয়ে এর উপর নিঃস্ব হাওর অঞ্চলের কৃষকের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে মহাজনদের দাদন ও এনজিওদের ঋণের চাপ। এ চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কি আদৌ রাখেন আমাদের কৃষককিষাণীরা। নিশ্চয়ই না।

এদিকে গোটা বছরের সম্বল বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার কষ্টের চেয়েও দেড়-দুই গুণ সুদে নেয়া ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় থামছে না কৃষকের কান্না। হাওর অঞ্চলের এক মৌসুমী বোরো ফসলে গোটা বছর কাটাতে না পারায় প্রতিবছর ফাল্গ–ন-চৈত্র মাসে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানোর’ অবস্থা হয় কৃষকের। এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে দুই-তিন গুণ সুদে তাদের মাঝে ঋণ ছড়ায় মহাজনরা। বৈশাখে ফসল উঠলে সুদে-আসলে ঋণ আদায়ে উঠেপড়ে লাগে তারা। কিন্তু এবার আকস্মিক বন্যায় সব ফসল শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকের ধান দেয়া বা তা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের উপায় না থাকায় অনেক কৃষককে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।


মহাজন-চাতাল মালিকরাও বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছেন, যা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তারপরও তারা যেহেতু এই কৃষকদের শ্রম-ঘাম দিয়ে যুগ যুগ ধরে ব্যবসা করছেন, সেহেতু তাদের সহায়তার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।


আমরা মানুষ। মানুষ মানুষের জন্য। একটু মানবিকতা যদি আমরা না দেখাতে পারি, একটা সমাজ কী করে চলবে? এ কথাটাই মহাজনদের স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবেলা করার মূল শক্তিই আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। ‘দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ’Ñ বাস্তব পৃথিবীতে আমরা তা করে দেখাতে পারি।

আশার কথা হলো, এরই মধ্যে হাওর অঞ্চলের কৃষিঋণ স্থগিত করা হয়েছে। নিশ্চয়ই ভালো উদ্যোগ। তবে সর্বস্বহারা মানুষের দিকে তাকিয়ে এই ঋণ মওকুফ করা যেতে পারে বলেও আমরা মনে করি। এমনকি এনজিওদের ক্ষুদ্রঋণও মওকুফ করার পাশাপাশি মহাজন ও চাতাল মালিকদের দাদনের বিষয়টিতে নজর দেয়া দরকার। সরকার এগিয়ে এলে সব পক্ষ মিলে একটা পথ বের করাটা কঠিন কিছু নয়। এটা সত্য, মহাজন-চাতাল মালিকরাও বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছেন, যা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তারপরও তারা যেহেতু এই কৃষকদের শ্রম-ঘাম দিয়ে যুগ যুগ ধরে ব্যবসা করছেন, সেহেতু তাদের সহায়তার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে মহাজনের দাদন, এনজিও ঋণ শোধের চাপে, সর্বোপরি এলাকায় কোনো কাজও না থাকায় পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে কৃষককে। এটা মেনে নেয়া যায় না। যেসব ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার গাফিলতি-অনিয়মের কারণে এ বিপর্যয় ত্বরান্বিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়াটা বিস্ময়কর! ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ, সব ঋণ মওকুফ ও ভবিষ্যৎ বিপর্যয় এড়াতে দায়িদের শাস্তির আওতায় আনা একান্ত জরুরি।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com