পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হাতাহাতি-হট্টগোলে পণ্ড হয়েছে পাকিস্তান পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশন। মঙ্গলবার (১৫ জুন) দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বাজেট অধিবেশনে প্রধান বিরোধী দল মুসলিম লীগ (নওয়াজ) নেতা শেহবাজ শরিফ বক্তব্য দেওয়ার সময় শুরু হয় এই ঘটনা এবং চলে প্রায় ৪০ মিনিট।
পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক দ্য ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন নিজের নির্ধারিত সময় শেহবাজ শরিফ বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে পাকিস্তানের বর্তমান ভঙ্গুর ও নড়বড়ে অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিন যখন দেশেটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা শুরু করেন, তখনই হট্টগোল শুরু করেন পাকিস্তানের সরকারি দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ)- এর একদল এমএনএ (মেম্বার অব ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি)।
শেহবাজ শরীফকে লক্ষ্য করে এ সময় তারা একসঙ্গে উচ্চকণ্ঠে ‘চোর চোর’, ‘ডাকাত ডাকাত’, ‘টাকা পাচারকারী’ বলতে থাকেন। তবে তাতে না থেমে নিজের বক্তব্য অব্যাহত রাখেন শেহবাজ।
এ সময় এক পর্যায়ে একজন সরকারদলীয় এমএনএ তাকে লক্ষ্য করে বাজেট বই ছুঁড়ে মারেন। প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় কয়েকজন এমএনএ তেড়ে আসেন সরকার দলীয় এমএনএদের দিকে। তারপরই ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভবনে শুরু হয় নারকীয় পরিস্থিতি। একে অন্যের দিকে তেড়ে আসা শুরু করেন, হাতহাতি-মারপিটের পাশাপাশি একে অপরের দিকে ফাইল, বাজেট বই, পানির বোতল ইত্যাদি ছুঁড়ে মারা শুরু করেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এই অবস্থা চলার পর পার্লামেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এক পর্যায়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি স্পিকার আসাদ কায়সার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
হাতাহাতির এই ঘটনায় ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আইন বিষয়ক কমিটির সচিব মালিকা বোখারিসহ কয়েকজন এমএনএ আহত হয়েছেন। পার্লামেন্টের মেডিকেল টিম থেকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে হাতাহাতি হট্টগোলের এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো। পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) এর নেত্রী এবং এমএনএ এক মঙ্গলবারের বাজেট অধিবেশনের হাতাহাতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফরম টুইটারে শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, ‘এই হচ্ছে ইমরান খানের সৃষ্টি ‘নয়া পাকিস্তান’-এর বাস্তব চিত্র। এই ঘটনা আসলে তার ফ্যাসিবাদি মনোভাবেরই প্রতিফলন। পাকিস্তানেরর পার্লামেন্টকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে এবং গণতন্ত্রকে দূর্বল করতে তিনি চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছেন না।
This is the reality of the ‘Naya Pakistan’ Imran Khan has created. This is a reflection of his fascist mindset. He will leave no stone unturned to paralyse parliament and weaken democracy. Throwing budget books at the opposition. This is Imran Khan’s ‘Riyaasat-e-Madina’. https://t.co/FaOtgaIR7Z pic.twitter.com/wQbJ895OA1
— Marriyum Aurangzeb (@Marriyum_A) June 15, 2021
দ্য ডন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত আলী নেওয়াজ আয়ওয়ন, ফাহিম খান ও পাকিস্তানের কাশ্মির বিষয়ক মন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তাদের দেখাদেখি অন্যান্য সরকারদলীয় এমএনএরাও হামলায় অংশ নেন।
পিটিআই মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা এসময় উপস্থিত থাকলেও নিজ দলের এমএনএদের থামানোর কোনো চেষ্টা তারা করেননি। উল্টো তাদের কেউ কেউ নিজেরাও হামলাকারীদের সঙ্গে মিশে আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন।
ন্যাশনাল অ্যাসম্বলি স্পিকার আসাদ কায়সার এক টুইটবার্তায় জানিয়েছেন এ ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলেই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: দ্য ডন


