- আশরাফ উদ্দীন রায়হান
আমার নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের বেলংকায় সদ্য সমাপ্ত তিন দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতিমার অন্যতম পর্ব হিসেবে সর্বস্তরের মুসলমানের কাছে মুর্শিদ ও শায়খ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারকাতুহুমের ‘আখেরী মুনাজাতের’ গভীর আবেদন বলে শেষ করার মতো নয়। কিন্তু হৃদয়-মন উন্মাতাল করে আল্লাহর দরবারে সমর্পিত হয়ে অযুত মুসল্লী নিয়ে শায়খের গগনবিদারী আকুল রোনাজারির ঘণ্টা-পৌনে এক ঘণ্টার চিরাচরিত প্রলম্বিত মুনাজাতের এই বুঝি ছন্দপতন ঘটলো! সাড়ে দশটায় ডিপার্টমেন্টের ক্লাস থাকা সত্ত্বেও ইকরা বাংলা টিভির ফেসবুক পেইজে নিবদ্ধ মনোযোগ রাখছিলাম।
ক্লাসে ঢোকার আগ পর্যন্ত শায়খ ইয়াহইয়া মাহমূদ সাহেবের বয়ান শুনছিলাম ল্যাপটপের স্ক্রিনে। এরপরে ঢাবি শিক্ষক মাওলানা হুসাইনুল বান্না হুযূরের সাবলীল তরজমায় ইমাম ক্বাসিম রশীদ আহমাদের উর্দু বয়ান শুনে শুনেই ক্লাসে যাই। বিগত বছর চারেক ধরে এমনটাই হয়ে আসছে। এর পরপরই সাধারণত শাইখুল মাশায়েখ আমাদের বড় হুযূর মঞ্চে উঠেন। শত শত মাইল দূরে থেকে আমারও চাতক পাখির মতো আকুল প্রতীক্ষার অবসান হওয়ার সময় বুঝি-বা এই উপস্থিত হলো।
মুনাজাতের সেই প্রতীক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণের চিরচেনা স্বরূপ এইবার আবির্ভূত হয়নি। বার্ধক্যপীড়িত শরীর নিয়ে তিনি হাঁপিয়ে উঠছিলেন যেন! মুনাজাতের আগে হাজির মুসল্লীদেরকে তওবা করানোর সেই গাম্ভীর্যভরা নৈঃশব্দের স্থিত পরিবেশও এবার চোখে পড়েনি। ঘোরলাগা মুনাজাতে আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে শায়খের প্রতিটি ডাক আর নিবেদন যে তন্ময়তার বান ডেকে আনতো সেই বিস্ময়বিধৌত আবেগোষ্ণ মুহূর্ত উপলব্ধ হয়নি এবার! বয়সের কাছে যেন হার মানতে চলেছেন তিনি।
তাঁর সমসাময়িক উম্মতের রাহবারগণ চলে গেছেন অনেকেই। চলে যাচ্ছেন কত দরদী কামেল মুর্শিদই। যাওয়ার এই সিলসিলা আমাদেরকে শঙ্কিত করে তুলছে হামেশাই। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, তিনি যেন আমাদের যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও আমাদের হুযূরকে সুস্থতাসহ আরও অনেক অনেক সময় বাঁচিয়ে রাখেন।আমাদের মাথার ওপরে হুযূরের মহীরুহ-ছায়াটির যে খুব দরকার! তবু মনে অজানা শঙ্কা জাগে : হারাই হারাই, সদা ভয় হয়;/ হারাইয়া ফেলি চকিতে…
২৮ জানুয়ারি ২০২৪
শহীদ হবিবুর রহমান হল,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুন: তাড়াইল ইজতেমা; ভালোবেসেছি যারে শত রূপে শত বার


