পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হিন্দুধর্মের সারকথার মর্ম বোঝেন না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে হিন্দু বলে দাবি করলেও হিন্দুধর্মের সারকথার মর্ম বোঝেন না। তাহলে তিনি ঠিক কী ধরনের হিন্দু?
বিজেপিশাসিত রাজস্থানের উদয়পুরে ব্যবসায়ী সংগঠনের এক আলোচনাসভায় ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী। রাহুল বলেন, হিন্দুধর্মের সারকথাই হল চারপাশের মানুষজনকে গুরুত্ব দেয়া। কারণ, প্রত্যেকেরই জ্ঞান রয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গে রাহুল প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে সেনাবাহিনীর এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করেছেন। সেনাবাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো একটি গোপন বিষয়কে তিনি রাজনৈতিক ফয়দা তোলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। সেনার ওই গোপন পদক্ষেপকে তিনি গোপন রাখতে চাননি। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে হারের আশঙ্কা ছিল বিজেপির। সেজন্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন মোদি।
কংগ্রেসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে তিন বার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হলেও তা গোপন রাখা হয়েছিল বলেও রাহুল মন্তব্য করেন।
রাহুল গান্ধীর ওই মন্তব্যের পাল্টা জবাবে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ আজ রাজস্থানের যোধপুরের ফালোদির জনসভায় দেয়া ভাষণে শাহ বলেন, শহীদ জওয়ানদের হয়ে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমন মন্তব্য করে শহীদ জওয়ানদের প্রতি রাহুল গান্ধী অসম্মান করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ভারতীয় হিন্দু ধর্ম বলতে আমরা যা বুঝি তা হচ্ছে পরমত সহিষ্ণু, পরধর্ম সহিষ্ণুতা। কিন্তু মোদি হিন্দু ধর্মের কলঙ্ক! হিন্দু ধর্মকে তিনি অধর্মে রূপান্তরিত করতে চাচ্ছেন। রাহুল গান্ধী ঠিক বলেছেন। মোদি মোটেও হিন্দুত্বের ধারক নন। তিনি হচ্ছেন সম্পূর্ণ বিদেশি ফ্যাসিস্ট মতাদর্শের ধারক। তাঁর যদি কোনও দল থাকে তার নাম হচ্ছে নাৎসি দল। হিটলার। তাঁর যদি কোনও ধর্ম থাকে তা নাৎসি ধর্ম। তাঁর যদি কোনও বিবেক থাকে তা হচ্ছে নাৎসি বিবেক। তিনি দেশকে বেঁচে দিচ্ছেন। সরকার চালানোর পক্ষ তিনি চরম অযোগ্য মানুষ। অন্য দেশে হানা দেয়া আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। সেজন্য কেউ তা করলেও গোপন রাখে। উনি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা প্রকাশ্যে বলে দিচ্ছেন এবং সেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক আদৌ হয়েছে কি না তা নিয়ে বহু মানুষ সংশয় প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানও তা অস্বীকার করেছে।


