২৮শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

হৃদয় ছোঁয়া তাড়াইল বেলংকার ইজতেমা

হৃদয় ছোঁয়া তাড়াইল বেলংকার ইজতেমা

আ মি নু ল ই স লা ম কা সে মী

তাড়াইলের বেলংকাতে চলছে ইসলাহী ইজতেমা। ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানীর খলিফা, দারুল উলূম দেওবন্দের সূর্যসন্তান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাতবারাকাতুহুম-এর নেগরানীতে বেংলকার জামিয়াতুল ইসলাহ আল মাদানীয়া প্রাঙ্গণে।

বিশাল ময়দান। হাজার হাজার দ্বীনী ভাইদের আগমন। অত্যন্ত শান্ত- শিষ্ট- মনোরম পরিবেশ। বুজুর্গানে দ্বীনের মিলনমেলা ঘটেছে এখানে। বিশেষ করে বিভিন্ন জায়গা থেকে ওলামায়ে কেরামের আগমণ চোখে পড়ার মত। জামাতবদ্ধ হয়ে আলেমদের আগমণে পুরো ময়দানের যেন শোভা বৃদ্ধি করেছে।

অত্যন্ত মজার পরিবেশ। ইসলাহী ইজতেমা যে এত সুন্দর পরিবেশে হয় আমার জানা ছিল না। কোন হৈ চৈ নেই। একদম নিরিবিলি। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, একটা আমলী পরিবেশ। চব্বিশ ঘণ্টা সাথীরা আমলের সাথে জুড়ে আছে। কেউ যেন গাফেল নেই।

দেশের বিজ্ঞ আলেমদের হৃদয় ছোঁয়া বয়ানগুলো সবচেয়ে বেশী আকর্ষণীয়। অনেক জ্ঞান- গর্ভ আলোচনা তাদের। বিশেষ করে ইসলাহী বয়ান অত্যন্ত ফায়দামান্দ। আলেমদের কথায় যেন মানুষ আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে। আমলের প্রতি জযবা তৈরী হচ্ছে।

একটা বড় ফায়দা ইসলাহী ইজতেমাতে। যে ফায়দাটা ওয়াজের মাহফিলে হচ্ছে না। কেননা, ওয়াজের ময়দানে আজ ইসলাহী কথা কম হয়। ওয়াজের পরিবর্তে হচ্ছে আওয়াজ। গল্প- গুজব কেচ্ছা কাহিনী। বিশেষ করে চুক্তিবাদী বক্তাদের কারণে ওয়াজের মাহফিলে রুহানিয়্যাত উঠে গেছে অনেক আগেই। যার কারণে কোন ফায়দা হচ্ছে না বলা চলে। হাজারো মানুষের ভিড়। হৈ চৈ। তাছাড়া বক্তারা নিজেদের স্টাইল এবং রংঢং করতে করতে আসল মাকসাদ কিন্তু ফউত হয়ে যায়।

আবার কিছু বক্তার দরকষা -কষি তো আছেই। যারা মাহফিলের আগেই বিভিন্ন কায়দায় গোপন চুক্তি করে আসে। নিজে হউক বা অন্য মারফত হোক। কিন্তু শেষ মেষ তাদের ওয়াজ থেকে কেউ আসল উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে না।

আল হামদুলিল্লাহ। কিছু কিছু বুজুূর্গ ব্যক্তিত্ব এখনো আছেন। যারা নিঃস্বার্থভাবে দ্বীনি খেদমত করে যাচ্ছেন। মানুষকে ছিরাতে মুস্তাকীমের উপর চালানোর জন্য কোশেশ করে যাচ্ছেন। তাদের কোন ডিমান্ড নেই। কোন চাহিদা নেই। কোন ফর্মালিটি মেইন্টেন করতে হয় না। এক আল্লাহর রেজামন্দী হাসিলের জন্য তাদের পথচলা।

আবার তাদের প্রোগ্রামগুলোতে এমন সব মানুষের ভীড়। যারা আসলেই ইসলাহ হওয়ার জন্য ছুটে আসে। তারাও রংঢং দেখার জন্য আসে না। বা কোন শোডাউনে শরীক থাকার জন্য নয়। আত্মার সংশোধনের জন্য তাদের উপস্থিতি। এজন্য দেখা যায়, নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে এখানে এসেছে তারা।

ঠিক নিজ উদ্যোগ, নিজের অর্থ ব্যায়, নিজের সংশোধনের উদ্দেশ্য, এ কারণেই আগত মানুষগুলোর ফায়দা বয়ে আনছে। এখনো এই বাংলাদেশের অনেক হক্কানী বজুর্গদের খানকা রয়েছে। যেখানে হকের আওয়াজ। সংশোধনের এক মনজিল। এবং কামেল ব্যক্তিত্ব।

আমার দেখা এই বাংলাদেশের হক্কানী আলেম এবং বুজুর্গদের অন্যতম এক ব্যক্তিত্ব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব। যিনি আকাবির আছলাফের যোগ্য উত্তরসুরী। ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানীর অন্যতম খলিফা। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। দুনিয়াবী কোন মাকসাদ তাঁর নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে, সেই সাথে দেশ বিদেশের পথহারা মানুষকে সঠিক রাস্তা বাতলে দিচ্ছেন।

সত্যি, ইসলাহ যাদের হওয়ার দরকার সেসব লোকগুলো এখানে হাজির হয়েছে। যেসব মানুষ কখনো আলেমদের কাছে আসে না এমন মানুষেরা এসেছে।

আবার স্বজাতি ওলামায়ে কেরামের জামাত। যারা গাফলতির কারণে একটু দূরে দূ্রে থাকার চেষ্টা করেন, তারাও হাজির হয়েছেন এখানে। একটা বড় কাজ করে যাচ্ছেন আল্লামা মাসউদ সাহেব। আলেম এবং আওয়ামের রুহানী খোরাক দিচ্ছেন। তাদের দ্বীলের মাঝে দ্বীনি জযবা পয়দা করার চেষ্টা করছেন।

গোটা বাংলাদেশের জেলায় জেলায় তিনি সফর করে থাকেন। বিভিন্ন জায়গাতে তিনি এভাবে ইসলাহী ইজতেমা করছেন। এটা তাঁর সময়োপোযোগী উদ্যোগ। তাঁর মেহনতের বদৌলতে আরো বহু ওলামায়ে কেরাম এখন ইসলাহী ইজতেমার মত মোবারক কাজে সামনে বাড়ছেন। তারা নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন।

আল্লাহ তায়ালা এসব মহান ব্যক্তিদের মেহনতকে কবুল করে নেন। তাদের এই প্রচেষ্টায় গোটা দেশের রং বদলে যাক। মানুষ আত্মার খোরাক হাসিল করুক। মহান প্রভুর দরবারে ফরিয়াদ করি, আল্লাহ তায়ালা এই ইজতেমাকে কবুল করে নেন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com