হেফাজতের তাণ্ডবে ১৯ মামলায় আসামি ২২ হাজার

হেফাজতের তাণ্ডবে ১৯ মামলায় আসামি ২২ হাজার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় আরও ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে সহিংসতার ঘটনায় মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হলো। এসব মামলায় ১০৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামাসহ ২২ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সহিংসার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন ৭টি মামলার সবকটিই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় দায়ের করা হয়েছে। নতুন মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পৌরসভা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলা, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে অগ্নি সংযোগের মামলা, গণগ্রন্থাগার ভাঙচুর ও প্রেস ক্লাব ভাঙচুরের মামলা।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) পর্যন্ত এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ১৫টি মামলা দায়ের করা হলো। এছাড়াও গত বুধবার পর্যন্ত সরাইল থানায় একটি, আশুগঞ্জ থানায় দুইটি ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

হামলার ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ এসব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

এদিকে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত প্রেস ক্লাব পরিদর্শনের পর বিকাল সাড়ে ৩টায় সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে আপনাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ থাকলে তা পুলিশকে দিয়ে সহায়তা করবেন। রক্তের হোলি খেলা গণতান্ত্রিক দেশে বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। চিহ্নিত করার পর তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আছি আপনাদের পাশে। দেশবাসী আছে আপনাদের পাশে।’

উল্লেখ্য, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ধ্বংসের নগরীতে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন ও জেলা প্রেস ক্লাবসহ অসংখ্য স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। রবিবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রতিষ্ঠানসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় জেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, পৌর মিলনায়তন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, পুলিশ লাইন, সদর থানা, খাঁটি হাতা বিশ্বরোড হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী বাড়ি, দক্ষিণ কালী বাড়ি, রেলওয়ে স্টেশন, জেলা আওয়ামী লীগ ও সংসদ সদস্যের কার্যালয়, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের কার্যালয়, তাঁর নিজের ও শশুরবাড়ি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পাঠাগার চত্বর ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *