হেফাজতে ভাঙন স্পষ্ট
মানজুম উমায়ের
:: হেফাজতের সদর দফতর হিসেবে পরিচিতি চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা মিলনায়তনে যে সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে তাতে আমার মনে হয়েছে হেফাজতে ভাঙন স্পষ্ট।
ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি, দেশের প্রায় সাড়ে ৩শ’ শীর্ষ নেতা তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন বাবুনগরী সমর্থক আয়োজকরা। তবে এটিকে কওমি অঙ্গন ও আল্লামা আহমদ শফীর চরম বিরোধী ভাণ্ডারীদের মাধ্যমে হেফাজত দখলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির প্রয়াত আমীর আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারীরা।
যদিও যাদের হাতে চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ তারাই হেফাজতের মূল আহ্বায়ক এ সম্মেলনের।
বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা দেখেছি, ইসলামী ঐক্যজোট খণ্ড খণ্ড হয়ে অণুপরমাণুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে হোসাইন আহমদ মাদানীর চিন্তার আলোকে প্রতিষ্ঠিত জমিয়তও একই ধারায় ভাঙনে ভাঙনে যেনো ক্লান্ত। খেলাফত মজলিসও একই সূত্রে গাঁথা। ভেঙেছে। ভেঙেছে সেই খেলাফত আন্দোলনও। নেজামে ইসলাম পার্টির তো এমন দশা- যেখান থেকে দলটি আর কখনো উঠতে পারবে বলে মনে হয় না। বেশ ক’বার এক নেতাকে দেখলাম, তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব দাবি করছেন কিন্তু তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার দলের চেয়ারম্যান কে? তিনি লা জওয়াব। আমি জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আসলে কোন গ্রুপের মহাসচিব। অবাক হলাম, তিনি কোনো চেয়ারম্যান ছাড়াই মহাসচিব।
ইসলামী শক্তিগুলো কীভাবে কীভাবে অতি দুর্বল হয়ে পড়ে- হেফাজতও বড় সাক্ষী হতে চলেছে। যতক্ষণ হেফাজতে মধু থাকবে ততক্ষণ হেফাজতও ভাঙবে। এরপর হয়তো আর কেউ খোঁজও নেবে না।
এ দেশে হেফাজতে ইসলামের জন্মের সঙ্গে আলেমদের অনেক আন্দোলনের একটা যোগসূত্র আছে। এটিকে ধরে রেখেই আলেমদের এগিয়ে যাওয়া উচিত। দাবি আদায়ের জন্য বড় প্লাটফর্ম হতে পারে এটি। একে কোনোভাবেই ভেঙে চুরমান করা উচিত নয়।
মুফতী ফয়জুল্লাহ, রুহীরা যেভাবে হাটহাজারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনের বিরোধিতা করেছেন, তাদেরকে জামায়াতের ক্রিড়নক বলেছেন, তাতে ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে-আরও হেফাজতের ব্যানার সৃষ্টি হতে যাচ্ছে দেশে। আবারও ব্যানার ছেঁড়াছেড়ি হবে। টানাটানি হবে। মানুষ দেখবে, হাসবে।
প্লিজ দয়া করে লোক হাসাবেন না। একত্র হয়ে কাজ করুন। ইসলামের জন্য কাজ করুন। শরঈ কোনো সমস্যা না হলে সবাই মিলে একসঙ্গে হেফাজতের ব্যানারে এগিয়ে যান।
লেখক : তরুণ আলেম


