পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলাসহ দেশের ২৬ জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আজ শুক্রবার শৈত্যপ্রবাহের জেলার সংখ্যা কমতে পারে। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি তাপমাত্রা ছিল; সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তখন তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হয়। গতকাল টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল, ভোলা জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি হালকা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের বেশির ভাগ জেলায় তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকা এলাকা ও তত্সংলগ্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। কুয়াশা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, তীব্র শীতের সঙ্গে হিমেল বাতাসে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গার মানুষ। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে। এটি এবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, গত দুই বছরে এত নিচে নামেনি চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা। সর্বশেষ ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছর ২৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও আকাশ মেঘলা হতে পারে। শৈত্যপ্রবাহেরও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং জেলার সদর হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগী। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বয়স্করা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ বেড়েছে।
সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান খোকন বলেন, শিশুদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে নজর দিতে হবে। অসুস্থ হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, খুব বেশি শীত ও খুব বেশি গরম কৃষির জন্য মঙ্গলজনক নয়। কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হতে পারে। কৃষি বিষয়ে সব সময় কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে।


