৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

৩১৩ কিলোমিটার হেঁটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা

ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলার মাটিতে জুতা পায়ে হাঁটেননি ময়মনসিংহের ফুলপুরের মোস্তফা মিয়া (৭১)। এবার বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতের জন্য ছেলে মরিুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে পায়ে হেঁটে ৩১৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এসে পৌঁছান তিনি।

পরে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদীর সামনে দাড়িয়ে ফাতেহাপাঠ করেন এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন।

এর আগে ৮ আগস্ট বিকেলে প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত প্রত্যয়নপত্রসহ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হন। মোস্তফা মিয়া তখন বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলার মাটিতে আমি জুতা পায়ে হাঁটিনি। এমনকি বিয়ের দিনেও জুতা পরিনি।”

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় ঘোষিত হলে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সাবেক পাঁচবারের এমপি মরহুম এম শামছুল হকসহ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের অনুরোধে তিনি পুনরায় জুতা পরা শুরু করেন। বর্তমান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বাবা তৎকালীন এমপি মরহুম এম শামছুল হক ময়মনসিংহ থেকে তার জন্য উপহার হিসেবে জুতা আনিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল জাতির পিতার কবর জিয়ারত করব। কিন্তু এতদিন নানা অসুবিধায় সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এখন ছেলেরা সবাই বড় হয়েছে। তাই এবার শোকের মাসে হেঁটে টুঙ্গিপাড়া এসে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি। আমার মনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকুক। তিনি দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন। পাশাপাশি বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি। ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে এই কাজ গুলো করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছুই চাই না।”

মোস্তফা মিয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান বলেন, “আমর বাবা একজন প্রকৃত বঙ্গবন্ধু অনুসারী। বঙ্গবন্ধু তার প্রিয় নেতা। তাই তিনি হেঁটে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতের ইচ্ছা পোষণ করেন। আমরা ৮ আগস্ট ফুলপুর থেকে পায়ে হেঁটে রওনা হই। ময়মনসিংহ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, জাজিরা, মাদারীপুরের কাঠালবাড়ি, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, সালতা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা অতিক্রম করে শুক্রবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়া এসেছি।”

তিনি বলেন, “এখানে এসে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি। পথে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। ফুলপুর থেকে পায়ে হেঁটে টুঙ্গিপাড়া আসতে আমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি। এখন আমরা গাড়িতে করে বাড়ি ফিরে যাব।”

মনিরুজ্জামান বলেন, “শুধু পদ্মা সেতু পায়ে হেঁটে পাড় হওয়ার সময় সেনা সদস্যরা আমাদেরকে বাঁধা দেন। পরবর্তীতে তারা সবকিছু শুনে তাদের গাড়িতে করে বাবা ও আমাকে সেতু পাড় করে দেয়। এটুকুই আমরা গাড়িতে চড়েছি মাত্র। বাদ বাকী সব পথ পায়ে হেঁটে এসেছি।”

সুত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com