২রা মার্চ, ২০২১ ইং , ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরী

৪৪টি নতুন পদচারী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

৪৪টি নতুন পদচারী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর বনানী ও এয়ারপোর্টের সামনে দুটি চলন্ত ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কিছুদিন না যেতেই সিঁড়িগুলো বিকল হয়ে পড়ে। অচলাবস্থায় পড়ে থাকা সিঁড়িগুলোর প্রধান ফটকে তালা। এ অবস্থায় নতুন করে ৮টি পদচারী সেতুতে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি যুক্ত করতে যাচ্ছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পথচারীদের নিরাপদ রাস্তা পারাপারে ৪৪টি নতুন পদচারী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পটির মাধ্যমে মোট নতুন ৩৬টি ফুটওভার ব্রিজ ও নতুন ৮টি ব্রিজে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি (এসকেলেটর) যুক্ত করা হবে। তবে ডিএনসিসির এই উদ্যোগে ভিন্নমত জানিয়েছেন নগর ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সড়ক মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নয়। এসকেলেটর স্থাপন যদি করতেই হয়, তবে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও আগের প্রকল্পেগুলোর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী করতে হবে। তারা এও বলছেন, যাত্রী পারাপারে জেব্রা ক্রসিং বরং বেশি নিরাপদ। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এটি চালু আছে। জানতে চাইলে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘প্রথমত এ সেতু যেন মোড়ে মোড়ে না বানাই। মোড়ে বানালেই বুঝবো আমরা অজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে দেখতে হবে চাহিদা আছে কিনা। সেখানে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উপযোগী হবে কিনা, জনবল আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। যে দুটি ফুটওভার ব্রিজ আগে স্থাপন করা হয়েছে সেগুলোর ফলাফল কী সেটাও দেখতে হবে। প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ কে করবে সেই চেইন অব কমান্ড ঠিক রেখে উন্নয়ন করতে হবে।’ ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের মার্চে প্রগতি সরণিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের পর নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদচারী সেতু এবং চলন্ত সিঁড়ি নির্মাণে প্রকল্প তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে অনুযায়ী এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিন বছর আগে বনানী ও বিমানবন্দর সড়কে দুটি পদচারী সেতুতে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। সেই সিঁড়িগুলো এখন বিকল। বিমানবন্দরের সামনের সড়কে গিয়ে দেখা গেছে এসকেলেটর দুটি নষ্ট। প্রবেশপথে তালা। চারটি সিঁড়ির মধ্যে দুটি সাধারণ সিঁড়ি দিয়েই মানুষ চলাচল করছে। নতুন সিঁড়িগুলো আগেরগুলোর মতো বিকল হয়ে পড়বে কিনা কিংবা আগেরগুলো কেন সচল হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘আগে যে সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো বাইরের জন্য উপযোগী ছিল না। ফলে ধুলা ও বৃষ্টির পানিতে কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। এখন যেগুলো লাগাচ্ছি, ধুলা ও বৃষ্টিতে সেগুলোর সমস্যা হবে না। ঠিকাদারের মাধ্যমেই এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।’ জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের’ প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৩১৯ কোটি ২৩ লাখ সাত হাজার টাকা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্পের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প অনুযায়ী নতুন করে যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে সেগুলোর অবস্থান ও আশপাশের উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হলো-কুড়িল চৌরাস্তা, উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের জসিম উদ্দীন অ্যাভিনিউ, গরিবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউর লুবানা হাসপাতাল, গাউছুল আজম অ্যাভিনিউর পূর্ব অংশ, মাইলস্টোন কলেজ, সিরামিক রোডের বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, প্রশিকা ক্রসিং মিল্ক ভিটা রোড, মিরপুরের শিয়ালবাড়ী মোড়, মিরপুর সিরামিক রোডের পেট্রল পাম্প, মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট, পুলিশ স্টাফ কলেজ, নাবিস্কো ফ্যাক্টরি, বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান সড়ক, মহাখালী ডিএনসিসির অঞ্চল ৩-এর অফিসের সামনে, মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর রোডের নেভাল হেড কোয়ার্টার সংলগ্ন, আর্মি স্টেডিয়াম, গুলশান ১-এর ভোলা মসজিদ, শুটিং ক্লাব, গুলশান ২-এর আজাদ মসজিদ, প্রগতি সরণির কোকাকোলা মোড়, শাহজাদপুর কনফিডেন্স টাওয়ার, মেরুল বাড্ডা বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে, রামপুরা সেতু সংলগ্ন ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, টেকনিক্যাল ক্রসিং, মাজার রোড ইউরোপিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে, কচুক্ষেতের রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শ্যামলী ইন্টারসেকশন, সাতমসজিদ রোডের গ্রাফিক্স কলেজ, রিং রোডে আদাবর থানার পাশে, মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড, শিয়া মসজিদ ক্রসিং, সূচনা কমিউনিটি সেন্টার ও বসিলা রোডের বেড়িবাঁধ বাঁশবাড়ি সড়ক।

আর যে ৮টি ফুটওভার ব্রিজে ১৬টি এসকেলেটর স্থাপন করা হবে সেগুলো হচ্ছে- কাকলী পদচারী সেতু, শাহীন কলেজ পদচারী সেতু, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, সিএমএইচ হাসপাতাল, শ্যামলী ইন্টারসেকশন, মহাখালী (ডিএনসিসির অঞ্চল-৩ এর সামনে) ও প্রগতি সরণি ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় পদচারী সেতু।

প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার ও আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা, ১৩.৬৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার পার্শ্ব নর্দমা নির্মাণে ৯ কোটি ১৩ লাখ, ৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার পাইপ নর্দমা নির্মাণে ২১ কোটি ৮৭ লাখ, ২৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়নে ২২ কোটি ৪ লাখ, ৭ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার সড়ক মিডিয়ান উন্নয়নের জন্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ, ২২ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার এমএস গ্রিল ফেন্সিং স্থাপনে ২১ কোটি ৮৫ লাখ, ২২ দশমিক ৩১ কিলোমিটার এমএস গ্রিল ফেন্সিং স্থাপনে ২৫ কোটি ৪৫ লাখ, এক হাজার ৭১০টি ট্রাফিক সাইন স্থাপনে এক কোটি ৭ লাখ, ৫০টি যাত্রী ছাউনী স্থাপনে ৪ কোটি ৯৩ লাখ, ৩৬টি নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে ৯৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৭টি বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজ উন্নয়নে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং ৮টি ফুটওভার ব্রিজে ১৬টি এসকেলেটর স্থাপনে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

গত ৩ জানুয়ারি ওই প্রকল্প অনুমোদন হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেয়নি সংস্থাটি। ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫০টি নতুন যাত্রী ছাউনি, বিদ্যমান ৪৭টি পদচারী সেতু সংস্কার, ট্রাফিক সাইন স্থাপন, সড়ক, সড়ক মিডিয়ান ও ফুটপাত উন্নয়নের কথাও রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com