৫ দিন পর মরক্কোর শিশু রাইয়ানের নিথর দেহ উদ্ধার

৫ দিন পর মরক্কোর শিশু রাইয়ানের নিথর দেহ উদ্ধার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ১০৪ ফুট গভীর কূপে পড়ে যাওয়ার পাঁচদিন পর উদ্ধার হলো মরক্কোর শিশু রাইয়ান। তবে জীবিত নয়, মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আনে উদ্ধারকর্মীরা। বাংলাদেশ সময় শনিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কূপের গভীর থেকে রাইয়ানের মরদেহ তুলে আনে উদ্ধারকারী দল।

মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার করা এক প্রতিবেদন থেকে রাইয়ানের মরদেহ উদ্ধারের এই খবর জানা যায়।

গত মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মরক্কোর চেফচাওয়েন প্রদেশের ইঘরান গ্রামে নিজের বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি গভীর কূপে পড়ে যায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু রাইয়ান। তারপর থেকেই তাকে উদ্ধার করতে তৎপর ছিলো মরক্কোর জরুরি বিভাগের কর্মীরা। মরক্কোর বেসামরিক সুরক্ষা অধিদপ্তর এই উদ্ধারকার্যে নেতৃত্ব দেয়।

পাঁচদিন ধরে কূপের ১০৪ ফুট গভীরে আটকে থাকা রাইয়ানকে উদ্ধার করে আনতে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রচুর দক্ষ লোকবল নিয়ে কাজ করতে থাকে উদ্ধারকারী দল। মাত্র ৯.৮ ইঞ্চি প্রস্থের কূপের ভেতর কেউ নেমে গিয়ে রাইয়ানকে তুলে আন অসম্ভব ছিলো। তাই উদ্ধারকারী ক্রেন, বুলডোজারসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কূপের পাশে বিশাল গর্ত খোঁড়ার কাজ শুরু করে। তবে তাতেও ভয় ছিলো ভূমিধ্বসে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে দূর্ঘটনা। বিগত পাঁচ দিন ধরে রাত দিন টানা কাজ করে গেছে উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা। ভূমির এতো গভীরে অন্ধকারের কারণে আলো জ্বালিয়ে কাজ করতে হয়েছে তাদের।

কূপে পড়ার চারদিন পেরোনোর পরও শিশুটিকে উদ্ধার করতে না পারায় পঞ্চম দিনে এসে আরও জোরেশোরে কাজ শুরু করে উদ্ধারকারী দল। টানা পাঁচদিন কূপের গভীরে আটকে থেকে অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলো রাইয়ানের শরীর। দড়ি দিয়ে বেঁধে শুকনো খাবার, পানি আর অক্সিজেন মাস্ক পাঠানো হয়েছিলো তার কাছে। তবে সেসবের কিছুই বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি শিশু রাইয়ানকে।

উদ্ধারকারী দলের প্রধান আবদেলহাদি টেমরানি এর আগে রাইয়ানকে জীবিত উদ্ধারের আশাব্যক্ত করে জানিয়েছিলেন, শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে জানা খুবই কঠিন। কিন্তু আমরা এখনও খুব আশাবাদী। কুয়ায় পাঠানো ক্যামেরায় দেখা গেছে সে একপাশে শুয়ে আছে।

তিনি আরও জানান, রাইয়ানের কাছে পৌঁছাতে আর মাত্র ২ মিটার মাটি খুঁড়তে হবে। কোনো ধরণের পাথরের মুখে না পড়লেই তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আনা সম্ভব।

রাইয়ান কূপে পড়ে যাওয়ার পর থেকে তার বাবা-মা একেবাড়ে মুষড়ে পড়েন। রাইয়ানের বাবা বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী একেবারের ‘বিধ্বস্ত (মানসিকভাবে) এবং খুবই উদ্বিগ্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার চোখের সামনে ছোট্ট রাইয়ান পড়ে গেলো। সেই থেকে এক মুহূর্তের জন্যও আমি চোখ বন্ধ করে ঘুমোতে পারিনি।’

আরও পড়ুন: মরক্কোয় গভীর কূপে পড়া শিশু রাইয়ানকে কি জীবিত উদ্ধার সম্ভব

শেষমেশ উদ্ধার করা গেছে শিশু রাইয়ানকে। কিন্তু পাঁচদিন ধরে অন্ধকারে আটকে থাকা শিশুটির মরদেহই তুলে আনতে হয়েছে উদ্ধারকারী দলকে। রাইয়ানের মৃত্যুর সংবাদ মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *