২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

৭ বছরেও হয়নি ২৪ ঘণ্টা, ৬৩ বার সময় প্রার্থনা

পাথেয় রিপোর্ট : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার এবং মেহেরুন রুনিকে হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হচ্ছে ১১ ফেব্রুয়ারি। ২০১২ সালের এই দিনে ঢাকায় পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজ বাসায় তারা নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন।

সাগর ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’ এর কয়েক দিন পর পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেছিলেন, ‘তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’ গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল ‘মোটিভ’ নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৪৮ ঘণ্টার বদলে সাত বছরেও খুনিরা গ্রেপ্তার হয়নি। তদন্তে অগ্রগতির তথ্য বা ‘মোটিভ’ও জনসমক্ষে আসেনি এই সময়ে।

ঘটনার সময় ওই বাসায় থাকা তাদের একমাত্র ছেলে মাহি সরওয়ার মেঘ বেঁচে যায়। মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন মেহেরুন রুনি।

ঘটনার পর রুনির ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা।

এ হত্যা মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি ৮ জন। মামলার অপর আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। আসামিদের প্রত্যেককে কয়েকবার করে রিমান্ডে নেওয়ার পরেও তাদের কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি আদালতে।

সাংবাদিক দম্পতির সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হলো আজ ১১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দুই মাসের তদন্তে কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারায় র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিলেন আদালত। ছয় বছর ১০ মাসে কোনো সফলতা দৃশ্যমান করতে পারেনি র‌্যাবও। এই সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে ৬৩ বার সময় প্রার্থনা করেন র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার দিন ধার্য আছে। নথিপত্রে দেখা গেছে, নির্ধারিত তারিখে বারবার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে ‘গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে’ বলে জানানো হয়েছে আদালতকে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) পরীক্ষায় ঘটনাস্থলে ‘অচেনা’ দুই ব্যক্তির উপস্থিতির আলামত পাওয়া গিয়েছিল চার বছর আগে। সাগর-রুনির স্বজনসহ অনেকের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে যাচাই করেও কোনো মিল পায়নি র‌্যাব। সন্দেহভাজন হিসেবে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের কারোর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। নিহত দুজনের বাসা থেকে খোয়া যাওয়া ল্যাপটপটিও উদ্ধার করতে পারেনি র‌্যাব।

এদিকে দীর্ঘ সাত বছরেও খুনের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাগর-রুনির স্বজন ও সহকর্মীরা। তাঁরা বলছেন, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে না। বিচারের দাবিতে আজ সোমবারও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবেন সাংবাদিকরা।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com