অজানা কারণে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা উপেক্ষিত: প্রধান বিচারপতি

অজানা কারণে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা উপেক্ষিত: প্রধান বিচারপতি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়, কিন্তু ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয় না। বঙ্গবন্ধুর জীবনী, রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হলেও কোনও এক অজানা কারণে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা অনেকটা উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ শেখ মুজিবুর রহমানের বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অলিলা গ্রুপের সহযোগিতায় বাংলা একাডেমি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম বজলুর রহমান ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ভাষার মাসে বঙ্গবন্ধুর ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে এই আয়োজনের জন্য আমি বাংলা একাডেমি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম বজলুর রহমান ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক মনোভাব আমি আবিষ্কার করেছি তিনটি আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে। প্রথমত, ’৪৭ থেকে ’৫২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর সক্রিয় ভূমিকা ও গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের সংবিধানে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমে। তৃতীয়ত, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সর্বস্তরে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের মাধ্যমে। ভাষা আন্দোলনে যদি বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা না হয়, তাহলে ভাষাশহীদদের জন্য যত আয়োজন, তা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রতিটি রায় ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি অনুবাদ বিভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নিজ ভাষায় আদালতের আদেশ ও রায় প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম বজলুর রহমান ফাউন্ডেশনর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক নাজমুল হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষাসংগ্রামী শেখ মুজিব শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে কিন্তু আজকের তরুণ প্রজন্ম জানে ভাষা আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ঐতিহাসিক ও অনন্য।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতিকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূলে রয়েছে মহান ভাষা আন্দোলন, যে আন্দোলনের বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল প্রবাদপ্রতিম।

অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়ে এ আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, একই সঙ্গে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের বিষয়টিও বিস্তৃত আলোচনার দাবি রাখে। কারণ বাহান্নর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের এটিই সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *