অধ্যাদেশ জারি করে হলেও ই-সিগারেট বন্ধ করতে হবে

অধ্যাদেশ জারি করে হলেও ই-সিগারেট বন্ধ করতে হবে

অধ্যাদেশ জারি করে হলেও ই-সিগারেট বন্ধ করতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আইনপ্রণেতা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সিগারেট কোম্পানিগুলো তরুণদের মাঝে ই-সিগারেটের ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কৌশলে ই-সিগারেটের প্রচারণা চালাচ্ছে। যা তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই তরুণ সমাজকে রক্ষায় এখনই ই-সিগারেট বন্ধ করা জরুরি। এজন্য বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। এর আগে প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করে ই-সিগারেট বন্ধ করে দিতে হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা অফিসার্স ক্লাব মিলায়তনে টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘তরুণদের নেশায় আসক্ত করতে নতুন হুমকি ই-সিগারেট: বন্ধের উপায়’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি।

সভায় বক্তৃতা করেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু, ফজলে হোসেন বাদশ, রানা মোহাম্মদ সোহেল, প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত, শিরিন আক্তার ও প্রফেসর মাসুদা রশিদ চৌধুরী এবং জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার এম এ মালেক ও গেন কোয়ান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। দেশে-বিদেশ থেকে শতাধিক তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মী ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই আলোচনা সভায় যুক্ত হন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তার আগেই আমরা তামাকমুক্ত হতে চাই। সেজন্যই ই-সিগারেটের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। সংসদীয় ককাস গঠন করে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি ই-সিগারেট আমদানি বন্ধে অর্থ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু বলেন, ধূমপান মাদকের প্রবেশদ্বার। আমাদের নতুন প্রজন্ম ই-সিগারেট নামে ক্ষতিকর পণ্যে আসক্ত হয়ে পড়ার আগেই এর প্রসার রুখতে হবে। তাই প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘ই-সিগারেট তরুণদের তামাক সেবনের উৎসাহ দেয়। সিগারেট থেকে ই-সিগারেট নিরাপদ তা ভাবার কোনো কারণ নেই। এটা তামাক কোম্পানির অপপ্রচার।’
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, মুনাফার জন্য ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঝুঁকিতে ফেলেছে ই-সিগারেট ব্যবসায়ীরা। ই-সিগারেটের ভয়াবতা থেকে তরুণদের রক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারির বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে তামাক কোম্পানিগুলো ইউটিউব, ফেসবুক, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছে। এছাড়া যারা ধূমপান ছাড়তে চায় তাদেরকে প্রচলিত সিগারেটের বদলে ই-সিগারেট ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। ই-সিগারেটের প্রসার বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মূল প্রবন্ধে সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ই-সিগারেট নিয়ে স্পষ্ট কোনো আইন না থাকায় দেশে ই-সিগারেট আমদানি ও বিক্রয় চলছে। সিগারেট কোম্পানিগুলো ই-সিগারেট কম ক্ষতিকর বলে তরুণদের আকর্ষণ করছে। ইতোমধ্যে ই-সিগারেটের ভয়াবতা থেকে জনগণকে রক্ষার জন্য ভারতসহ বিশ্বের ৪২টি দেশে এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৫৬টি দেশ ই-সিগারেট ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *