পাথেয় রিপোর্ট : জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ব-দক্ষিণ কর্ণারে টিএণ্ডটি মাঠে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বাদ আছর অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম এ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
এর আগে, শুক্রবার বেলা ১০ টা ৪০ মিনিটে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের অসুস্থতায় ভুগছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জে বাবা এবং মায়ের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।
জানাজায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব নায়েবে আমীর ফয়জুল করিম, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, কোরআন শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব আল্লামা নুরুল হুদা ফয়জী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবিভক্ত ঢাকা মহানগরের দীর্ঘদিনের সভাপতি ছিলেন বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদ। সর্বশেষ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে এর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক হেমায়েত উদ্দিন।
প্রসঙ্গত, স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামভিত্তিক রাজনীতির ময়দানে প্রথম সারীর নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জে বাবা আলহাজ মাওলানা আব্দুল আলীর ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। বাবার প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার হাতেখড়ি। তারপর খুলনা শিরোমনি হাফেজিয়া মাদরাসায় পবিত্র কুরআন হেফজ করেন তিনি। পরে ঢাকা আলীয়া ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অধ্যয়ন করেন তিনি।
১৯৮৭ সালে পশ্চিম রাজাবাজার হেফজখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঢাকার মালিবাগে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আবুজর গিফারি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। কিছুদিন তার পিতার প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি রামপুরা একরামুন্নেছা ডিগ্রি কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন।
এ দেশের ইসলামী রাজনীতির ডায়েরীতে ইতিহাস রচনার যোগ্য অংশীদার আপোষহীন লড়াকু সৈনিক এই দেশপ্রেমিক মানুষটি। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯২৯ সালে (ব্রিটিশ আমলের) প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছাত্র সংগঠন ‘জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া’র তিন সেশনের (১৯৮১-৮৩) কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন।


