অনায়াসেই কোটি টাকা ‘ঘুষ’ দিতেন মনির!

অনায়াসেই কোটি টাকা ‘ঘুষ’ দিতেন মনির!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের দোকান কর্মচারী থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের উত্থান স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে। তবে গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে স্বর্ণের চোরাচালান বাদ দিয়ে নজর দেন জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখল ও কেনা-বেচার বাণিজ্যে।

আর এতে সহায়তা করেছেন তৎকালীন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও। আর অসৎ উপায়ে নিজের কাজ বাগিয়ে নিতে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়েছেন তিনি।

মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বলছে, রিমান্ডে গোল্ডেন মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য মিলছে। তার মদদদাতা ও সহযোগীদের তথ্যও মিলছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

গত ২১ নভেম্বর সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার নিজ বাসা থেকে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত তিনটি মামলার তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। সংস্থাটির মিন্টো রোডের কার্যালয়ে রেখেই গোল্ডেন মনিরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ২০০১ সালের পর থেকে স্বর্ণ চোরাচালান ছেড়ে জমি দখল ও কেনা-বেঁচার দিকে নজর দেন গোল্ডেন মনির। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন ঢাকা ও এর আশে-পাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক প্লট।

তৎকালীন সময় থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সহায়তায় নিজের অপকর্ম অব্যাহত রাখেন গোল্ডেন মনির। এমনকি বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারাও এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার উত্থানের পেছনে সরকারি কর্মকর্তাসহ ভিআইপি অনেকেই রয়েছেন। আর নিজের কাজ আদায় করতে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত অনায়াসেই ঘুষ দিতেন তিনি।

সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গোল্ডেন মনির এখন পর্যন্ত নিজের মালিকানায় ২৫ টির মতো প্লট বা ফ্ল্যাট থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বাকিগুলো তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, গোল্ডেন মনিরের মদদদাতা ও সহযোগীদের বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

গোল্ডেন মনিরের অপরাধের বিষয়ে অন্যান্য সংস্থা তদন্ত করতে চাইলে তাদেরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

২১ নভেম্বর সকালে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেপ্তারের সময় তার বাসা থেকে ৬০০ ভরি স্বর্ণ, বিদেশি পিস্তল-গুলি, মদ, বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা ও নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। এছাড়া, তার বাড়ি থেকে অনুমোদনহীন দু’টি বিলাশবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়, যার প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। তার ‘অটো কার সিলেকশান’ নামের গাড়ির শোরুম থেকে আরো তিনটি অনুমোদনহীন বিলাশবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়।

র‍্যাব জানায়, ঢাকা ও আশে-পাশের এলাকায় দুই শতাধিক প্লট, ফ্ল্যাটের মালিক গোল্ডেন মনির। রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজসে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অসংখ্য প্লট হাতিয়ে নেন তিনি। একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগেও গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে দুদকের এবং রাজউকের একটি করে মামলা রয়েছে। গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা মনির মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী ও স্বর্ণের চোরাকারবারী। এ থেকেই মনির পরিচিতি পান ‘গোল্ডেন মনির’ হিসেবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *