কাউসার মাহমুদ : ভারতে হিন্দু-মুসলিম সৌহার্দ্যতা ও পরস্পরে হৃদ্যতার কারণেই এত বছর ধরে টিকে আছে দেশটি। বহু যুগ ধরেই উপমহাদেশের এই বিশাল দেশটিতে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে বিভেদ ও দাঙ্গার সৃষ্টির জন্য একশ্রেণির সাম্প্রদায়িকরা চক্রান্ত করেই চলেছে। এসব সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নানান নির্যাতন করতে কুণ্ঠবোধ করে না। ধর্মীয় দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িকতা আর ইবাদত-অর্চনা নিয়ে উগ্রবাদী হিন্দুরা সবসময়ই একটা ঘোল পাকাতে ব্যস্ত ভারতের বিভিন্ন এলাকায়। গুজরাটসহ অন্যান্য প্রদেশে যার ভুরি ভুরি প্রমাণ মজুদ।
কিন্তু সাম্প্রতিক দু’ধর্মের লোকেরাই উদারতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার এ উর্বর মাটিতে ফলিত হচ্ছে সৌহার্দ্যে বীজ। মহানুভবতা ও আন্তরিকতার অনুপম সব দৃষ্টান্ত তৈরী হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। কয়েকদিন আগেই গত হওয়া কুরবানির ঈদে কেরালার মুসলমানরা নামজ পড়ছে তাদের মহল্লার মন্দিরে। মসজিদে পানি উঠে যাওয়ায় নামাজ পড়া অসম্ভব হলে হিন্দুরা খুলে দেয় তাদের উপাসনালয়ের দ্বার। মুসলিমরা নির্বিঘ্নেই পালন করতে পেরেছিলো তাদের ধর্মীয় উৎসব।
এই ঘটনার পরপরই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সেই কেরালাই। সম্প্রীতি ও সহানুভূতির নজির গড়ে ভারতজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে কেরালার একটি মসজিদ। মসজিদটির ভেতরে পাশের স্কুলে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তাদের পানি, দুপুরের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনের সব ব্যবস্থাই করেন মসজিদ কমিটি এবং সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, রোববার সকালে কেরালার শিবগিরি স্কুল সিট পড়েছিল পরীক্ষার্থীদের। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন অভিভাবকরা। প্রখর রোদে তাদের কষ্ট হচ্ছিলো অনেক।
পরীক্ষা শুরুর পরও স্কুলের বাইরেই দাঁড়িয়েছিলেন তারা। পাশের মসজিদের পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা ভদি হিরা ট্রাস্টের সদস্যরা দেখতে পান অভিভাবকরা প্রচণ্ড গরম, খিদা ও পানি পিপাসায় কষ্ট পাচ্ছেন। তাদের দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে আছে তারা প্রত্যেকেই।
তখন ট্রাস্টের সদস্যরা মসজিদের ভেতরে অভিভাবকদের নিয়ে যান। সেখানে তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি তাদের খাবার ও পানিপানের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে সকাল থেকে মসজিদে অবস্থানরত অভিভাবকদের উপস্থিতিতেই দুপুরে জোহর নামাজ পড়েন মুসল্লিরা। একই জায়গায় মুসলিমদের নামাজ ও কষ্টে ভোগা হিন্দুদের বিশ্রাম, ভারতজুড়ে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য নজীর। উগ্রবাদীদের চোখে হাত দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হলো সৌহার্দ্য সম্প্রতির এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত।
মসজিদে অমুসিলমদের বিশ্রামের ও আপ্যায়নের বিষয়টি সাধারণ মুসলমানরাও সমর্থন করেছেন। এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরীক্ষা শেষে ছেলেমেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা বাড়ি ফিরে গেছেন। তাদের মুখেও ছিলো প্রশংসা এবং চোখে কৃতজ্ঞতার প্রাপ্তি।
ভারতজুড়ে যখন ধর্মের নামে উসকানি, বিভেদ মাথাচাড়া দিচ্ছে, তখন মসজিদে সম্প্রীতির নজির গড়ায় স্থানীয় মুসলমানদের প্রশংসা করছেন সুধীজনরা। সম্প্রীতির এমন মেলবন্ধন থেকেই আসা করা যায় একটি সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক ভারতের।
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


