অর্থপাচারের তথ্য জানতে কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে দুই ফ্যাক্স
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অর্থপাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য চেয়ে কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনে দুটি জরুরি ফ্যাক্স বার্তা পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে দেয়া এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত ২২ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বিদেশে অর্থপাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চেয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থপাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য চেয়ে ১০ ডিসেম্বর একটি জরুরি ফ্যাক্স কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশন বরাবরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর আরও একটি ফ্যাক্স পাঠানো হয়। তথ্য পাওয়ার পর সেটা যাচাই পাওয়ার অবিলম্বে আদালতকে অবহিত করা হবে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রাজনীতিবিদরা নন, বিদেশে বেশি অর্থ পাচার করেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গোপনে কানাডার টরেন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে, কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, যদিও এটি সামগ্রিক তথ্য নয়, সেটিতে আমি অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে আমাদের অনেক সরকারি কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে থাকে।
মন্ত্রী বলেন, আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এর মধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন চারজন। এছাড়া কিছু আছেন তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ী। আমরা আরও তথ্য সংগ্রহ করছি। পাচারে শুধু কানাডা নয়, মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা। তবে তথ্য পাওয়া খুব কঠিন। বিভিন্ন মিডিয়ায় যে তথ্য বের হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, আসলে সংখ্যাটি তত নয়।
পাচারের দায় বিদেশি সরকারও এড়াতে পারে না উল্লেখ করে আবদুল মোমেন বলেন, যেমন সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে টাকা রাখলেন, সেই তথ্য আমাদের দেয় না। তারা ট্রান্সপারেন্সির কথা বলে, কিন্তু যদি বলি কার কার টাকা আছে, সেই তথ্য দাও, তখন তারা দেয় না। এটি একটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।
এ বিষয়ে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসহ রুল জারি করেছিলেন। রুলে টাকা পাচারকারী সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
চার সপ্তাহের মধ্যে দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, এনবিআর চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এ রুল বিবেচনায় থাকা অবস্থায় বিদেশে টাকা পাচারকারীদের নাম-ঠিকানাসহ সব ধরনের তথ্য (মামলাসহ, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা) প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।
এ আদেশ অনুসারে বৃহস্পতিবার দুদক, সিআইডি, বিএফআইউ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এনবিআর পৃথক প্রতিবেদন দিয়েছে। আর শুনানি শেষে আদালত টাকা পাচারকারীদের বিষয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তথ্য জানাতে বলেছেন।


