অ্যাপে পাওয়া যাবে ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট

অ্যাপে পাওয়া যাবে ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট

পাথেয় রিপোর্ট : রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে অ্যাপে পাওয়া যাবে ট্রেনের টিকিট। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টিকিটের দাম পরিশোধ করে ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হবে অ্যাপের মাধ্যমে। বাকি টিকিট বিক্রি হবে স্টেশনের কাউন্টার থেকে।

এছাড়া ঈদের অগ্রিম টিকেট কমলাপুরসহ ছয়টি স্থান থেকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) কমলাপুর স্টেশনে অংশীজন সভা শেষে এসব কথা জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

তিনি বলেন, এতদিন শুধু কমলাপুর স্টেশন থেকেই ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি করা হত। কিন্তু এবার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে টিকেট বিক্রি হবে। রেলের টিকেটিং ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। টিকেট নিয়ে কালোবাজারি, স্টেশনে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে হয় এমন অভিযোগ ছিল। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রীরা যেন ঘরে বসে টিকেট কিনতে পারেন সেই ব্যবস্থার দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ানস্টপ রেলওয়ে ডিজিটাল যাত্রীসেবা সিস্টেম’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মূলত এ অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। এই অ্যাপ চালু হলে যাত্রীরা পছন্দের সিট, টিকিটের মূল্য পরিশোধ এবং ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন। অ্যাপ চালু হলে কালোবাজারি বন্ধ হয়ে যাবে, টিকিট পেতে ভোগান্তিও থাকবে না। এছাড়া যাত্রা শেষে সেবার মান সম্পর্কেও যাত্রীরা রেটিং দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম বলেন, রেলপথে ভ্রমণে আগ্রহী যে কোন যাত্রী এই অ্যাপ দিয়ে ঘরে বসেই টিকিট কাটতে পারবেন। এটা দিয়েই অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট মূল্য পরিশোধ করে মোবাইল ম্যাসেজে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেল কর্মকর্তাকে তার প্রমাণ পরিদর্শন করলেই যাত্রীর টিকিট সঠিক বলে প্রমাণিত হবে।

এ ছাড়া কাগজে ডকুমেন্ট রাখার জন্য কোন যাত্রী অ্যাপ দিয়ে টিকিট কেটে স্টেশনে এস কাগজে টিকিটও সংগ্রহ করতে পারবেন। সেই সুবিধাও রাখা হবে। মূলত অ্যাপটি চালু করা হলে টিকিটসহ রেলওয়ে কর্তৃক যাত্রীসেবায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

এ সময় টিকেটিং ব্যবস্থা নিয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন আরো বলেন, ‘এর বাইরে ফুলবাড়িয়া থেকে টিকেট দিব। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যদি ওনারা রাজি হন তাহলে টিএসসি থেকেও ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি করব। আর মিরপুরে পুলিশের কনভেনশন সেন্টার আছে সেখান থেকে টিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করব। এতে সহজেই ভিড়-বাট্টা কিংবা সারা রাত অপেক্ষা করে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়, সেটা লাগবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ এপ্রিল ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল রাজশাহী থেকে উদ্বোধন করবেন বলেও জানান রেলমন্ত্রী। এরপর ২৭ এপ্রিল থেকে নিয়মিত ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীনভাবে চলবে ট্রেনটি।

কীভাবে যাত্রী সেবা বাড়ানো যায় তা চিন্তা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রেলের যে সব স্টেশন বন্ধ আছে সেগুলো কীভাবে চালু করা যায় সেদিকেও আমরা নজর দিচ্ছি। রেলকে যুগোপযোগী এবং মানুষের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে রেল ব্যবস্থা যেন গড়ে তুলতে পারি সেজন্য আমরা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *