আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে যাব —স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে যাব —স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘শান্তিপ্রিয় পার্বত্য এলাকায় কোনোদিন এমন পরিস্থিতি হবে চিন্তাও করিনি। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী বসে থাকবে না। আমরা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যাব। কোনোক্রমেই আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ হতে দেব না।’

গতকাল দুপুরে বান্দরবান সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে বান্দরবানের আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। গতকাল সকালে রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি সশস্ত্র ব্যক্তিদের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত সোনালী ব্যাংক পরিদর্শন করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলায় একটা শান্তির পরিবেশ ছিল। এ এলাকার লোকজন ও সরকার মিলে তিন জেলাকে একটা শান্তির এলাকা হিসেবে তৈরি করেছিলাম। এখানে শুধু দেশী পর্যটক নয়, বিদেশী পর্যটকও আসে, বিশেষ করে থানচি, রুমা, রাইক্ষ্যং আজ সারা বিশ্বে খুব পরিচিত জায়গায় পরিণত হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তাদের অবস্থান জানান দেয়ার জন্য রুমায় একটা ঘটনা ঘটিয়েছে। পরদিন থানচিতে ঠিক একই রকমের ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা জঘন্য অপরাধ করেছে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কাজেই রাষ্ট্র এখানে চুপ থাকতে পারে না। আমরা যা যা করণীয়, সে ব্যবস্থা করব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার বাহিনীর সংখ্যা বাড়াব। বাড়ানো হবে বিজিবির কর্মকাণ্ড।’ মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা নির্দেশনা সামরিক বাহিনীর প্রধানকে দিয়েছেন। সবাই মিলে যেন একটা যৌথ অভিযান চালানো হয়। তার আগে বান্দরবানের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সবাই মিলে জোর প্রচেষ্টা চালানো হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোনো অস্ত্রধারীকে, কোনো সন্ত্রাসীকে, কোনো চাঁদবাজকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে দেব না। আমরা অনেক ধৈর্যের সঙ্গে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলাম। এর মধ্যে আলোচনায় না গিয়ে তারা তাদের অবস্থান জানান দেয়ার জন্য, স্বার্থসিদ্ধির জন্য এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি তাদের সংখ্যা হিসাব করলে মূল জনগণের ১ শতাংশও হবে না। কাজেই আমরা মনে করি এসব অন্যায় ও অস্ত্রের মহড়া আর সহ্য করা হবে না। আমরা আমাদের ব্যবস্থা অবশ্যই করব। সবাই একমত হয়েছেন, এসব কর্মকাণ্ড আমরা আর করতে দেব না। যেকোনো মূল্যে এ এলাকায় শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টা আমরা করব।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *