মাউদুল কাদির : পূর্ব দিগন্তে সকালের সূর্য ওঠার মতো সত্য ও দারুণ বিষয় ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ। একে ছোট করে দেখার কিছু নেই। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে ইয়াবা চোরাচালান বন্ধে এটি যুগান্তকারী একটি অগ্রগতি।
মরণনেশা ইয়াবার কবল থেকে দেশকে রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাচ্ছে তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিরা। এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। তাই দেশকে মাদকমুক্ত করতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছে প্রশাসন। এ সুযোগ যারা কাজে লাগাচ্ছে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাই, অভিনন্দন জানাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, উখিয়া-টেকনাফসহ ১৯৩টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে ঢুকছে। মিয়ানমারকে ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ করতে অনেকবার বলেছি। তারা বলে কিন্তু বাস্তবে কিছুই করে না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সীমান্তকে আমরা কঠোরভাবে সুরক্ষা করব।
শনিবার সকালে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ পেলেই আমাদের জানান, আইজিপিকে জানান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হলেও জড়িত থাকলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। আমাদের ইসলাম ধর্মে মাদকের বিষয়ে কঠোর নিষেধ আছে। আসুন আমরা ধর্মকে হৃদয়ে ধারণ করে ইয়াবাকে বর্জন করি। আপনারা বিকল্প কর্মসংস্থান করতে সরকারের সহায়তা চাইলে তাও করা হবে। তবুও আপনার এ পথ থেকে ফিরে আসেন।
এর আগে পুলিশ বলেছে, আত্মসমর্পণকারী ১৬০ ইয়াবা কারবারি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সকালে তাদের টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে প্রতীকী ইয়াবা ট্যাবলেট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করবে।
বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা চরমভাবে অরক্ষিত। এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। বিশেষত মিয়ানমার সীমান্ত এমনভাবে খোলা যে, চট্টগ্রামের মার্কেটগুলো মনে হয় মিয়ানমারেরই কোনো দোকানপাট। তাদের পণ্যে ঠাসা সেসব দোকানগুলো। সীমান্ত সহজের উপর ভর করেই ইয়াবার চোরাচালান এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তা বলাবাহুল্য। আমরা মনে করি, ইয়াবাসহ মাদক আসার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হোক। ইয়াবা চোরাচালানকারী যেই হোক তাকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়। তাহলেই আমাদের হৃদয়ের বাংলাদেশ ফিরে পাবো। ঘরে ঘরে শান্তি ফিরে আসবে।
লেখক : ভাইস প্রেসিডেন্ট, আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম


