আনোখা গ্রাম | আদিল মাহমুদ
এখানে নুয়ে পড়া সবুজ ঘাসের কোলে মাটি। মেঠো পথ—বুক চিরে পদচিহ্ন। ছোট্ট ছোট্ট ঘর। উঠোন পেরিয়ে কৃষকের জমি। সবার মুখে মুখে হাসি। দূরে বয়ে চলছে সুরমা নদী। স্বপ্ন পূরণের আশা—মাঝি ভাসায় দুঃখ জয়ের তরী।
এখানে ঘুম ভেঙে পাখ-পাখালির ডাকে। খালে-বিলে শাপলাগুলো খিলখিলিয়ে হাসে। লাল-পলাশের কার্পেটে মোড়া পথে—মেঘমল্লারের সুরে ভাসে দুষ্টু ভ্রমর। গুনগুনিয়ে যায় প্রেমের মুক্তমালা। পিউকাঁহা লুকোচুরি খেলে সারা প্রহর।
এখানে সামিয়ানার নিচে—ধান সারি সরিষার ক্ষেতে। ছোট্ট দিঘির পাশে। বনবিতানের উচ্ছ্বাসে। সারা রাতের বাসরে জেগে রয়—বেলি, জুঁই, মাধবীলতার দল। স্বপ্নমালার ক্যানভাসে ফুটে ওঠে ভালোবাসা-রঙের মিলন বেলা।
এখানে বৃষ্টি ভেজা লেবু ফুলের গন্ধে—ছড়ানো শিহরণ জাগানো প্রেমের স্বাদ। কচু পাতায় ভাসে এক কণা মুক্তোর প্রাণ। ঝিনুক ছুটে মরে—হারানো মুক্তো-বিন্দুর আশায়। অবহেলিত বুনো ফুলের সারি—পায় যৌবনচ্ছাসের নব ভাষা।
এখানে রাতে চানাচুরের চাঁদ। নিশীথে নেশায় নোয়ানো অন্ধকার। মাদারিপানের নেশায় চাতক পাখি চায় আকাশ পানে। রাত প্রহরের এক ঝলক স্মৃতির স্পর্শে—সুগন্ধি নেশার আচ্ছন্নতায়। বুদবুদ করে দেয়—ঝলমলে মধ্যরাতের শেষ—
ঈদ ।। সোমবার ।। ভাটিদিহি


