আপিলেও তিন আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল

আপিলেও তিন আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল

পাথেয় রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে মনোনীত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন আপিলেও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচজন কমিশনারের মধ্যে চারজন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলের পক্ষে রায় দেন। তবে, কমিশনার মাহবুব তালুকদার তিনটি মনোনয়নপত্রকেই বৈধ করার পক্ষে রায় দেন। ফলে পাঁচজনের মধ্যে চার-এক ভোটে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন খারিজ করা হয়।

৮ ডিসেম্বর শনিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীদের করা আপিলের শুনানি করে তিনটি মনোনয়নই বাতিল করে দেয় ইসি। ফলে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়াটা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। তবে ইসির এই সিদ্ধান্তের ওপর উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও কায়সার কামাল, নওশাদ জমির, মাসুদ আহমেদ তালুকদার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, শনিবার দুপুরে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার পক্ষে দায়ের করা তিনটি পৃথক আপিল একইসঙ্গে শুনানি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্ব পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশন। পরে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না দিয়ে ইসি এটিকে পেন্ডিং করে। এরপর বিকাল ৫টায় আবারও শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে কমিশন থেকে জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার জমা দেওয়া ফেনী-১ এবং বগুড়া ৬ ও ৭ এই তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। ওই বাতিলে আদেশের বিরুদ্ধে বুধবার আপিল জমা দেওয়ার শেষ দিনে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করা করা হয়।

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে মোট ৩০৬৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। রিটার্নিং অফিসাররা যাচাই-বাছাই করে তার মধ্যে ৭৮৬টি মনোনয়ন অবৈধ বলে ঘোষণা করে বাতিল করে দেন। সোমবার থেকে নির্বাচন কমিশন এসব বাতিল মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ শুরু করে। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩ জন আপিল করেন। এসব আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) থেকে শুনানি শুরু হয়। শনিবারও শুনানি শেষ হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইসি ঘোষিত নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *