পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবানদের হাতে যাওয়ার পর হাজার হাজার আফগান দেশ ছাড়ার জন্য উদগ্রিব। এই ক্রান্তি লগ্নে আফগান নাগরিকদের পাকিস্তানে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে দেশটির সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই-এফ) সেই অনুযায়ী চলবে এবং সেটাই মেনে নেবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মাওলানা ফজলুর রমহান।
তিনি বলেন, তালেবানের ক্ষমতা দখলে আমরা খুশি হয়েছি এবং তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকে সাধুবাদ জানাই। প্রতিবেশি দেশ বলে তাদের সাথে আমরা সুসম্পর্ক রাখবো। তবে তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়া ও শরণার্থীদের আশ্রয় দেবার ব্যাপারে আমরা দেশের সরকারের আইন ও নিয়মকানুন মান্য করবো।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি আরও বলেন, তালেবানের এই বিজয় পার্শ্ববর্তী দেশ হিসাবে পাকিস্তানের তরুণদের উদ্বুদ্ধ করবে, তালেবানের প্রভাব পাকিস্তানীদের উপর পড়বে! কিন্তু জমিয়ত তালেবানের কর্মপন্থা কখনো অবলম্বন করবে না। তারা নিজেদের সাংগঠনিক নিয়ম ও দেশের নিয়ম অনুযায়ী চলবে।
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) গণমাধ্যমে দেয়া একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ও দেশটির বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।
মাওলানা ফজলুর রমহান বলেন, জমিয়ত বিশ্বের আরও অনেক দেশে আছে। জমিয়তের আকাবিরদের অনেক ইতিহাস আছে। ভারত, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, নেপাল, আফ্রিকাসহ সব দেশের জমিয়ত নেতারা তাদের দেশের আইনকে শ্রদ্ধা করে, সরকারকে মান্য করে এবং সেই অনুযায়ী চলে। সরকার কর্তৃক মুসলমানদের শান্তি, নিরাপত্তা ও ধর্মের উপর আঘাত করা হলে তারা নিজ নিজ দেশের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবাদ করে।
পাকিস্তানের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ আরও বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কেবল পাকিস্তানের রাজনীতি নিয়ে ভাবে, চিন্তা করে। অন্য দেশের রাজনীতি নিয়ে তাদের চিন্তা নেই, অন্য দেশের জন্য নিজের দেশের আইন তারা অমান্য করবে না। অন্য দেশের ভালো মন্দের ব্যাপারে তারা নিজ দেশের সরকারের কাছে মত প্রকাশ করতে পারে, জোরজবস্তি নয়।
এদিকে আফগানিস্তানে তালেবানদের কাবুল পুনরুদ্ধারকে স্বাগত জানিয়েছেন ওমানের গ্র্যান্ড মুফতি আহমাদ বিন হামাদ আল খালিলি। এটিকে ‘স্পষ্ট বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে আল্লাহর ইচ্ছায়ই বাস্তবায়ন হয়েছে।


