পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিঠি লিখেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা যায়, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই জঙ্গিদমনে পাকিস্তান যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না বলে একাধিক জায়গায় মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াইয়ে পাকিস্তান ‘কিছুই করেনি’, বলেছিলেন তিনি। সেই পাকিস্তানের কাছেই সাহায্য চাইতে হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। আফগানিস্তানে তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাহায্য চাইলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প আফগান যুদ্ধের অবসান চান। ১৭ বছর ধরে তালেবানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে আফগান সেনা। ২০০১ সালে আমেরিকায় ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান আক্রমণ করে। আমেরিকার উদ্দেশ্য ছিল তালেবানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে আফগানিস্তানে একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সৃষ্টি করা। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্পেরও পাল্টা সমালোচনা করেছিলেন ইমরান।
রয়টার্স সূত্রে জানা যায, ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি চিঠি পেয়েছেন তারা। তালেবানকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পাকিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। চিঠিতে ট্রাম্প পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, আফগানিস্তান সমস্যা মেটাতে পাকিস্তানকে পাশে চায় আমেরিকা।
ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ট্রাম্পের চিঠির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি গণমাধ্যমকে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পাকিস্তান মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
আফগান যুদ্ধে ইতি টানতে চান সেদেশের প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানিও। গত সপ্তাহে জানা যায়, তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করতে ১২ জনের একটি টিম তৈরি করেছেন তিনি। যারা শান্তি স্থাপনে তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করবে।
কিছুদিন আগে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা ইউএস সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল জোসেপ ভোটেল। দক্ষিণ এশিয়ার নীতিকৌশল সংক্রান্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিংয়ের সময়ে এ কথা বলেন তিনি। তিনি একে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন নীতিকৌশল হিসেবেও অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে টেকসই রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


