পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সম্প্রতি (৪-১০সেপ্টেম্বর) পোপ ফ্রান্সিস আফ্রিকা মহাদেশ সফর করেছেন। ২০১৩ সনে রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান হওয়ার পর আফ্রিকায় এটি তার চতুর্থ সফর। এই সফরে পোপ ফ্রান্সিস আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ-কেনিয়া, উগান্ডা, মিসর, মরোক্কো, মোজাম্বিক, এবং কয়েকটি দ্বীপপুঞ্জের রাষ্ট্র পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, সফরে পোপ খুব সাদামাটা হোটেলে অবস্থান করেছেন। এবং বিলাসবহুল হোটেলে থাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুধু পোপই নন, পোপের সাথে তার সেক্রেটারি, বিশপ, কার্ডিন্যালরাও অনাড়ম্বপূর্ণ হোটেলে অবস্থান করেন।
পোপের আফ্রিকা সফর অনেক দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আফ্রিকা এমন একটি দেশ যেখানে ক্যাথলিক খৃস্টানদের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে। এক সময় ইউরোপকে মনে করা হত খৃস্টবাদের লালনভূমি। কিন্তু এখন সেই ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে কট্টর স্যাকুলার দেশগুলোতে পূর্ণ ।যারা ইউরোপে খৃস্টান বলে পরিচয় দেয় তারা নিয়মিত চার্চেও শরিক হয় না।
আমেরিকা ভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
পক্ষান্তরে আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খৃস্ট ধর্ম গ্রহণকারীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ২০৬০ সনের মধ্যে আফ্রিকার প্রত্যেক ১০জনের মধ্যে ৪জনের বেশী থাকবে খৃস্টান। বোস্টন ইউনিভার্সিটির ধর্ম ও সমাজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিকোলেট ম্যাঙ্গলোস ওয়েবার বলেন, ‘আফ্রিকা এমন দেশ যেখানে ভবিষ্যত খৃস্টানদের।’
আফ্রিকায় খৃস্টানদের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ার কারণ সেখানে সামগ্রিক জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এরচেয়ে বড় কারণ হল সেখানে খৃস্টান হওয়া মানে এমন এক সামাজিক সংগঠনের অংশ হয়ে যাওয়া যেখান থেকে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান ও নিরাপত্তা লাভের ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা পাওয়া যাবে- বলছিলেন ড. ম্যাঙ্গলোস ওয়েবার।
‘চার্চ সেখানে চিকিৎসা, পড়ালেখা, অন্যান্য সেবাগুলোও দিয়ে থাকে। এই সেবাগুলো এমন যে উপনিবেশিক শাসন বিলুপ্ত হওয়ার পর আফ্রিকায় সরকারের তরফ থেকেও এ ধরণের সাহায্য দেওয়া হয়নি।’ ক্যাথলিক চার্চগুলো এ সব ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রাখছে, তার থেকে প্রোটেস্টান্ট চার্চ এবং ইসলামি মিশনারিগুলো অনেক পিছিয়ে, যোগ করেন ম্যাঙ্গলোস ওয়েবার।
সত্যি বলতে কি, ক্যাথলিক চার্চে এমন অনেক নারী পুরুষ রয়েছেন, যারা নিজের জীবনকে অন্যের সেবায় উৎসর্গিত করে দিয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি


