আমন চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ

আমন চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ● কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন চাষে গুরুত্বারোপ করেছে। চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৫৩ লাখ ৫ হাজার হেক্টরে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার ৫’শ টন চাল। আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ হেক্টর বাড়ানো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সূত্র মতে, এবার ৯৫ হাজার হেক্টরে হাইব্রিড, ৪১ লাখ ২৭ হাজার হেক্টরে উচ্চফলনশীল ও ১০ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টরে দেশি জাতের রোপা আমন চাষ করা হবে। তার মধ্যে ঢাকা অঞ্চলের ৮ জেলায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩৭ হেক্টরে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৪ জেলায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৯১৬ হেক্টরে, কুমিল¬া অঞ্চলের ৩ জেলায় এক লাখ ৭৭ হাজার ৮৩২ হেক্টরে, সিলেট অঞ্চলের ৪ জেলায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৪ হেক্টরে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ জেলায় ৫ লাখ ২৭ হাজার ২৮৭ হেক্টরে, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের ৩ জেলায় ৪৭ হাজার ৯৮৮ হেক্টরে, রাজশাহী অঞ্চলের ৪ জেলায় ৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৫৩ হেক্টরে, বগুড়া অঞ্চলের ৪ জেলায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১০৫ হেক্টরে, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৭ হেক্টরে, দিনাজপুর অঞ্চলের ৩ জেলায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৫ হেক্টরে, যশোর অঞ্চলের ৬ জেলায় ৪ লাখ ২২ হাজার ৮২৫ হেক্টরে, খুলনা অঞ্চলের ৩ জেলায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৫ হেক্টরে, বরিশাল অঞ্চলের ৬ জেলায় ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪১ হেক্টরে ও ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় এক লাখ ২৩ হাজার ২৫ হেক্টরে রোপা আমন চাষ হবে।

সূত্র জানায়, বাজারে ধান চালের দাম চড়ে যাওয়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রোপা আমন চাষে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরাও ধান চাষে অধিক মাত্রায় ঝুঁকেছে। কয়েক বছর ধরে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় ধান চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছিল না। ফলে তারা ধানের বদলে অন্য ফসল চাষ শুরু করেছিল। তবে গতবছর বোরো মৌসুম থেকে বাজারে ধানের দাম চড়তে থাকে। মাস দেড়েক আগে বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। বাজারে বোরো ধানের ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম চড়া। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে মোটা ধান স্বর্ণা প্রতি মণ (৪০ কেজি) এক হাজার টাকা দরে, মাঝারি সরু বি আর-২৮ এক হাজার ৫০ টাকা দরে এবং কথিত মিনিকেট ১১’শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে চাষি এবার রোপা আমন চাষ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বীজতলা তৈরি শুরু করা হয়েছে। রোপা আমন চাষ বৃষ্টি নির্ভর। সেজন্য কোন কোন বছর বৃষ্টি টান দিলে সম্পূরক সেচ দিতে হয়।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক চৈতন্য কুমার দাস জানান, বন্যায় বোরো ধানের ক্ষতি পোষায়ে নিতে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ লাখ ২৫ হাজার হেক্টরে। আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ হেক্টর বাড়িয়ে ১১ লাখ ২৫ হেক্টর করা হয়েছে। এতে আড়াই লাখ টন উৎপাদন বাড়বে। এবার আমন চাষ উপযোগী কোনো জায়গাই ফাঁকা রাখা হবে না। সেজন্য আমন চাষে চাষিকে অধিক মাত্রায় উৎসাহিত করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *