আমরণ অনশন চলছে শেবাচিম হাসপাতালে, পাঁচজন অসুস্থ

আমরণ অনশন চলছে শেবাচিম হাসপাতালে, পাঁচজন অসুস্থ

পাথেয় ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্ট, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের নির্দেশ থাকার পরও বেতন-ভাতা প্রদানে পরিচালকের গাফিলতির প্রতিবাদে সোমবার (২ জুলাই) দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পরায় তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেননি বরে জানা গেছে।
এর আগে রবিবার (১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে তারা এ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
এদিকে কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও আমরণ অনশনের কারণে হাসপাতালে জরুরি রোগী ছাড়া অন্যা রোগীদের সাধারণ চিকিৎসা-সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ২১৫ কর্মচারীর এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্বতা প্রকাশ করে আমরণ অনশন করছেন হাসপাতালের পুরাতন কর্মচারী ও বাংলাদেশ সরকারি ৪র্থ কর্মচারী সমিতির বরিশাল জেলা শাখার নেতারা।
কর্মবিরতি ও অনশন কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা জানান, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শেবাচিম হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে ২১৫ জন কর্মচারী নিয়োগ দিলে তারা কাজে যোগদান শুরু করেন। ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্মচারীদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলে কর্মচারীরা উচ্চ আদালতের রিট মামলা দাখিল করে। ওই বছরের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালত কর্মচারীদের পক্ষে রায় দিলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সরকারের করা আপিলও আদালত খারিজ করে দেয়। এপর চলতি বছেরর ৬ ফেব্রুয়ারি ওই রায়টি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালককে নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদফতরের ডিজি।
বক্তারা আরও জানান, আদেশটি পেয়ে পরিচালক ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীদের বিভিন্ন দফতরে কার্যাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তিতে পরিচালককে গত ৪ এপ্রিল যোগদান করা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি।
কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেওয়ার সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেও অদৃশ্য ও রহস্যজনক কারণে পরিচালক ডা. বাকির হোসেন এ বেতন ভাতা দিচ্ছেন না বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
তারা জানান, গত চার মাস আগে কাজে যোগদানের পরও বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় ২১৫ কর্মচারী পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
এ ব্যপারে পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন , ‘গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নবনিযুক্ত কর্মচারীরা হাসপাতালের বিভিন্ন দফতরে কাজ করে আসছেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাদের বেতন ভাতা দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানের জন্য মতামত চেয়ে ফের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির জবাব পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *