আমাদের নবী মুসলিম ছিলেন

আমাদের নবী মুসলিম ছিলেন

আমাদের নবী মুসলিম ছিলেন

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : নিঃসন্দেহে আমাদের নবী মুহাম্মাদ ( সাঃ) মুসলিম ছিলেন। পবিত্র কুরআনের সুরা আনআমে উল্লেখ রয়েছে, ” আনা আউয়্যালুল মুসলিমিন” আমি প্রথম মুসলমান। এমনি ভাবে সুরা যুমার এর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, ” উমিরতু লি আন আকুনা আউয়্যালু মিনাল মিনাল মুসলিমিন” আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি যেন সর্ব প্রথম মুসলমান হই”।

সম্প্রতি হাবিবুর রহমান রেজভী নামে এক বক্তা তিনি বলেছেন, আমাদের নবী মুসলমান ছিলেন না( নাউজুবিল্লাহ)

ঐ বক্তা একটা খোঁড়া যুক্তি পেশ করেছেন, সেটা হল, নবী যদি মুসলমান হয়, তাহলে হাদীসে আছে, কুল্লু মুসলিম ইখওয়া” প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। নবী যদি মুসলমান হয়, তাহলে তিনি আমাদের সমান হয়ে গেল। সে হিসেবে নবী ভাই হলে, তাহলে নবী পত্নীগণ হবেন ভাবী। অথচ কুরআনে বলা হয়েছে, নবী পত্নীগণ তোমাদের মাতা।

এখানে ঐ বক্তা রেজবী সাহেবকে বলতে চাই, তাহলে তো আপনার পিতাও মুসলমান ছিল না। আপনি অমুসলিম ঘরের সন্তান। কেননা আপনার পিতা যদি মুসলমান হয়, তাহলে আপনার কথা অনুযায়ী আপনার মা আর মা থাকবেনা। তিনি আপনার ভাবী হয়ে যাবেন।

এমনি ভাবে আপনিও মুসলমান নন। কেননা আপনি যদি মুসলমান হন, তাহলে আপনার সন্তানদের নিকট আপনার স্ত্রী হবে তাদের ভাবী। তারা আর মা বলতে পারবে না।
রেজবী সাহেবের কথা অনুযায়ী, তার পিতাও মুসলমান নয়, আবার রেজবী সাহেব নিজেও মুসলিম নয়।

আসলে কিছু মুর্খ বক্তা আমাদের দেশের সরল প্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন। যার একটা বড় প্রমান হাবিবুর রহমান রেজবী। এই রেজবী সাহেবের মত বহু ওয়ায়েজীন বেরিয়েছেন, যারা ওয়াজটাকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছেন। ওনাদের কুরআন হাদীসের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। কুরআন হাদীসের কোন লেখা পড়া নেই। সব কিছু মনগড়া ব্যাখ্যা বিশ্লেষন তারা দিয়ে মানুষদের গোমরাহীর দিকে ধাবিত করছেন।

এই বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্ম প্রাণ। তারা ইসলামকে ভালবাসে। আলেমদের ভালবাসে। হক্কানী পীর মাশায়েখদের ভালবাসে। আর এই সুযোগ গ্রহণ করেছে, কিছু মানুষ। ওরা আলেম নয়, কিন্তু আলেমদের লেবাস ধারণ করেছে। ওরা পীর নয়, কিন্তু পীর সেজে বসে আছে। এরকম ধোঁকাবাজ কিছু মানুষ মাঠে ময়দানে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে।
সুতরাং এধরনের ওয়ায়েজীনদের নিয়ন্ত্রণ আগে করা দরকার। একচেটিয়া ভাবে সবাইকে নয়।

রেজবী সাহেবের যদি কুরআন হাদীসের জ্ঞান থাকত, তাহলে তিনি এধরনের আপত্তিমুলক কথা বলতে পারতেন না। উনাদের কথায় বোঝা যায়, কুরআন হাদীসের কিছুই জানেন না।
যেখানে কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আমাদের নবী মুসলমান ছিলেন। সেখানে আহাম্মুকের মত ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণের মাঝে বিতর্ক সৃষ্টি করা খুবই দুঃখজনক।
আল্লাহ তায়ালা সকলকে সহী বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *