আলিফ হরফে সে আছে
১.
মনের চাঁদ জ্বালাই, ওবেলা সুকণ্ঠ বীণা
পর পর গ্লাস
লাল রুমাল নাড়িয়ে জোনাকিতে লুকিয়ে যায় কেউ
দখিনা হাওয়ায় বড় হয় শ্যামা সংগীত
বিভিন্ন মুদ্রায় নাচা দোলনা থেকে কবর
কবরে স্বপ্নের ধারাভাষ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সংসার
আলিফ হরফে সে আছে
একটার পর একটা জন্মদিন তার ছিঁড়ে পড়ে
অথচ সরকারী ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে
পিলের শহর
আমি এই শহরে, ফলিত ভিসা হারা ক্রমিক
মৃতবীজ হাতে—
সাওয়াল মাসের চাঁদে পালিয়ে বেড়াই
মাঝে মাঝে, তাকে মনে হয় ডেকার্স লেনের শিসপ্রিয়া
কাঙ্খিত উচ্চতায় বসে আছে…
২.
ছেঁড়া তারের দোতারা ধূলো বোঝে, গান বোঝে,
হাঁপর ডাকা হাওয়ায় ঋণ শুধু বাড়িয়ে রুক্ষতা—
বিচ্ছিন্ন থাকি গাঢ় করে আড়াল শরীর।
পেয়েছির খোলা খাতায় একটাও চন্দ্রবিন্দু নেই,
কখন আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে গেছে!
কথার গিঁট দেয়া আঁচল নিরবেই মুখ মোছে।
শুকনো পাতারা ঠিকঠাক ঝরে যায় বলে
অন্যদিন খুঁটে চলি নুড়িপাথরের গল্পগাথা।
বিষণ্ন চিবুকে ডাঁশিয়ে,বড় নিষ্ঠুর—
মানুষের জমে থাকা ক্ষতে, বাদামি নার্সের
নেশা লাগানো উঁকি নেই।
শুধু ফিউজের টিউব ভাঙা আয়নায়
রাতকানা রাতকানা ভাবছে,
আমাকে আর হাঁটতে বলো না সিরামিক মায়ায়…
লেখক পরিচিতি-
অয়ন্ত ইমরুল
কবি
জন্ম ১৯৮৭
প্রকাশিত বই ‘ছায়া সমুদ্র ও বুদ্ধের ভায়োলিন’


