- শেখ নাঈমুল ইসলাম
এই দেশের আর দশজন বড় আলেমের চিন্তাচেতনা, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের থেকে শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.)-এর কাজের প্রকৃতির বিস্তৃতি এবং গভীরতা ব্যাপক। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এমন এক দার্শনিক ব্যক্তির এই বিপুল বিস্তৃত কাজের লিগ্যাসি সামনে এগিয়ে নেবে কে?—এই প্রশ্ন বহুদিনের। সম্প্রতি তিনি তাঁর বার্ষিক ইসলাহি ইজতেমায় সকলের সম্মুখে ঘোষণা করেন, তাঁর সকল কাজ, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের দায়িত্ব তিনি জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনকে দিয়েছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা বলে আমি মনে করি এবং তা নানা কারণেই। সেই সাথে, বিষয়টি বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
প্রথমত, এই ঘোষণা একটি বিরল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের আলেম সমাজের মধ্যে৷ এই দেশে মৃত্যুর আগ অবধি কোনো বড় আলেম নিজেদের কাজের জায়গা থেকে অবসরে যান না। ফলে সৃষ্টি হয় নানাবিধ সমস্যার। অতিরিক্ত বার্ধক্যের ফলে তারা পরিণত হন কিছু কুশিলবের পুতুলনাচে। সেই সাথে, তারা যেহেতু তাদের উত্তসূরী বা দায়িত্বশীল নিয়োগ দিয়ে যান না, ফলে সেখানে তার মৃত্যুর পর শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) সুস্থ অবস্থায় তাঁর উত্তরসূরী নিয়োগ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি পঁচে যাওয়া দুর্গন্ধময় সিস্টেমের বিরোধিতা করলেন।
- এবার আসি তার উত্তরসূরী মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন প্রসঙ্গে। শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ বাঙালী আলেম তাঁর সকল কাজের লিগ্যাসি সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব যে ব্যক্তিটিকে দিলেন, তাঁকে নিয়ে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন অতিব জরুরী। এটি যেমন তাঁর অনুসারীদের জানা জরুরী, তেমনি তাঁর বিপরীত চিন্তার মানুষের জন্যেও জরুরী।
আমার জানামতে আল্লামা মাসঊদ (দা.বা.)-এর বিপুল সংখ্যক ছাত্র, ভক্ত, খলীফা, কর্মী-অনুসারীদের মধ্যে প্রবীণ থেকে নবীন পর্যন্ত সকলের কাছেই বিষয়টি এখন হট টপিক। তাঁর প্রবীনতম ছাত্র-শিষ্যদের মধ্যেও এই নিয়ে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকও হয়তো ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, অবশ্য হওয়াটাই স্বাভাবিক।
এই প্রশ্ন অবশ্যই উঠা যৌক্তিক যে, মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন কেন প্রাসঙ্গিক? কারণ এই প্রশ্নের উত্তরের সাথেই জড়িয়ে আছে শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.)-এর সকল অনুসারীদের পরবর্তী আস্থা, ভরসা ও নেতৃত্বের জায়গা। সেই প্রাসঙ্গিকতার খোঁজ করতেই এত কথার অবতারণা।
প্রথম প্রশ্ন হতে পারে, বর্তমান বাংলাদেশে যেসকল চিন্তাবিদ, কর্মবীর, স্ব স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত, জ্ঞানভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় জড়িত প্রবীণ আলেম আছেন, তাঁদের অনেকেই সরাসরি আল্লামা মাসঊদ (দা.বা.)-এর ছাত্র কিংবা আশির দশকে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন লাজনার কর্মী। এই এত বিপুল সংখ্যক ছাত্র, ভক্ত, অনুসারী —যারা বর্তমানে এ দেশের নেতৃস্থানীয় আলেম—তাঁদের সবাইকে রেখে বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের নেতৃত্বকে তিনি কেন বেছে নিলেন, আর জমিয়তের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কেনইবা তার নাম প্রস্তাব করলেন পরবর্তী নেতা হিসাবে?
এর উত্তর একটি কথায় অন্তর্ভুক্ত “ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ কোনো ব্যক্তির নাম নয়, এটি একটি সামগ্রিক চিন্তাধারার নাম।” কোনো ব্যক্তি যখন তার ব্যক্তিত্বকে ছাপিয়ে সামগ্রিক চিন্তাধারায় পরিণত হন, তখন তার লিগ্যাসি বহন করার জন্য এমন ব্যক্তির প্রয়োজন পড়ে, যে তার সামগ্রিক চিন্তাধারাকে ধারণ করেন, লালন করেন এবং চর্চা করেন।
- একজন ব্যক্তি যখন তার নাম ছাপিয়ে একটা ‘সামগ্রিক চিন্তাধারায়’ পরিণত হন, তখন তাঁর সামগ্রিকতাকে ধারণ করছে কে?—সেই বিষয়টি সবথেকে বিবেচ্য, আর সেই মাপকাঠিতে মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের কোনো বিকল্প নেই।
এ কথায় কোনো দ্বিমত করার সুযোগ নেই যে, এ দেশে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.)-এর অনেক যোগ্য ছাত্র ও খলীফা রয়েছেন, কিন্তু বয়সে তরুণ মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের মতো তাঁর সামগ্রিক চিন্তাধারাকে ধারণ ও লালন করেন এমন কেউ নেই। এখানে ভুল বোঝার সুযোগ তৈরী হতে পারে, সে জন্য বিষয়টি আরেকটু পরিস্কার করা দরকার। তাঁর অনেক ছাত্র আছেন যারা ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রে দিকপাল হয়েছেন। অনেকে আছেন তাসাউফের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। অনেকে আছেন সাংগঠনিক বিষয়ে পারদর্শী। অনেকে আছেন মাদরাসা পরিচালনায় আদর্শ। কেউ কেউ আছেন প্রখ্যাত দাঈ। কেউ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। কেউ আছেন ওয়াজের ক্ষেত্রে অনুসরণীয়। কেউ আছেন প্রখ্যাত গবেষক ও লেখক। কিন্তু, একজন ব্যক্তি যখন তার নাম ছাপিয়ে একটা ‘সামগ্রিক চিন্তাধারায়’ পরিণত হন, তখন তাঁর সামগ্রিকতাকে ধারণ করছে কে?—সেই বিষয়টি সবথেকে বিবেচ্য, আর সেই মাপকাঠিতে মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের কোনো বিকল্প নেই।
এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ‘শায়খুল হিন্দে সানী’ মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী (দা.বা.)। ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী (রহ.) জীবিত অবস্থায় মাত্র ৩৬ বছরের যুবক মাওলানা মাহমুদ মাদানীকে শতবর্ষী মহীরুহ সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছিলেন। তখন দারুল উলুম দেওবন্দে গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সব আলেম-ওলামা এবং জমিয়তের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ জীবিত ছিলেন। এত এত দিকপাল আলেমদের রেখে বয়সে নবীন মাওলানা মাহমুদ মাদানীকে কেন নেতৃত্বে নিয়ে এসেছেন ফিদায়ে মিল্লাতের মত মুজাদ্দিদ মানুষ, এই বিষয়টি যদি বুঝতে পারেন, তাহলে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) কেন মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনকে নেতৃত্বে নিয়ে এসেছেন সেই বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন উঠতে পারে, মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন বাংলাদেশের আর দশজন বড় আলেমের সন্তানদের মতো পরিচিত মুখ নন। এর একটি কারণ হলো, ঐ সকল আলেম যখন কিছুটা বার্ধক্যে উপনীত হন তখন থেকেই তাদের সন্তানদের দ্বারাই তাঁরা পরিচালিত হতে শুরু করেন। সেইভাবে সন্তান লাইমলাইটে চলে আসেন অনেক আগেই। কিন্তু আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম। তিনি তাঁর সন্তানদের দ্বারা পরিচালিত নন, বরং তাঁর সন্তানরা তাঁর দ্বারা পরিচালিত, যে কারণে সন্তানদের লাইমলাইটে ওভাবে আসা হয়নি।
দ্বিতীয় কারণ, অন্য সকল আলেমদের দেখা যায় তারা অনেক আগে থেকেই পরিকল্পিত ভাবে নানারকম কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তাদের সন্তানকে লাইমলাইটে নিয়ে আসেন, যদিও তখন মূলত এদের যথাযথ তরবিয়ত ও সোহবতরেই বেশি প্রয়োজন থাকে। সেখানে শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) তাঁর সন্তানদের, বিশেষ করে মাওলানা মাকনুনকে লাইমলাইটে না এনে এই সময়ে বরং তাকে যথাযথ তরবিয়ত প্রদান এবং যুগশ্রেষ্ট আকাবির উলামায়ে কেরামের সোহবত দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন। এ কথা হলফ করেই বলা যায়, বর্তমান বাংলাদেশের যে সকল সাহেবজাদা আলেম আছেন, তাদের মধ্যে মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের মতো এত দীর্ঘসময় আকাবিরদের সোহবত, তরবিয়ত এবং স্নেহ কোনো সাহেবজাদা পাননি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যে সময়ে অন্য সাহেবজাদাগণ বাবার গদিনশীন হতে তটস্থ, সেই সময়ে সদরুদ্দীন মাকনুন আকাবিরের সোহবতে অভিজ্ঞতা অর্জনে লিপ্ত। একারণে সমকালীন অন্য সাহেবজাদাদের মতো লাইমলাইটে আসার আর সুযোগ তার হয়নি।
তৃতীয় একটি প্রশ্ন উঠতে পারে, মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের নেতৃত্ব গুণ নিয়ে। কারণ শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) এর এত বিপুল বিস্তৃত সাংগঠনিক কাজ, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের প্রায় কোথাও মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের নাম ১ম সারিতে দেখা যায় না। এর উত্তর যারা সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, তারা সবাই জানেন যে, শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কারাবন্দী হওয়ার পর তাঁর মুক্তিসংগ্রাম থেকে শুরু করে তাঁর সকল কার্যক্রম, তা সে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা, ইসলাহুল মুসলিমিন, দেশব্যাপী ইকরা বাংলাদেশ স্কুল, জামিয়া ইকরার ফান্ডিং, ইসলাহি ইজতেমার আয়োজন ইত্যাদি যে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের কাজ হোক, সকল কাজের মূল আয়োজক এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের পিছনে তাঁর এই জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা সদরুদ্দীনের একক ভূমিকা রয়েছে। সময়ের ডাকে সারা দিয়ে কোনো বৈপ্লবিক কর্ম সম্পাদনে অথবা যে কোনো সংকট আহবে “আমাদের একজন সদরুদ্দীন মাকনুন আছে” এই মন্ত্র কাজ করে আসছে।
তার যোগ্য নেতৃত্বে এ দেশে তিনটি যুগান্তকারী কাজ সংঘটিত হয়েছে। এতদিন যাবত এই বিষয়গুলো নিয়ে খুব অদ্ভুতভাবে এবং কিছু ক্ষেত্রে সচেতন ভাবেই তাঁর অবদানকে অনেকেই আড়ালে রেখেছেন, কিন্তু এখন সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ জরুরি।
মাওলানা মাকনুনের সবচেয়ে বড় অবদান, এই শতাব্দীর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অন্যতম একটি কাজ লক্ষাধিক আলেম, মুফতি ও ইমামের স্বাক্ষর সম্বলিত জঙ্গিবাদ বিরোধী ফতোয়া। এই ফতোয়া সংগ্রহে যে মানুষটির অবদান ও ত্যাগ সবথেকে বেশি, তিনি হলেন মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন। এই ফতোয়ার সুফল আজ গোটা জাতি ভোগ করছে। এতে কোনো মতে নিজের নামটা ঢুকানো এক সময় বড় আলেমের অনেকেরই আকাঙ্ক্ষার বিষয় হতে দেখেছি, দেখেছি নিজের নাম ঢুকানোর জন্য চেষ্টা তদবিরও। সেই যুগান্তকারী কাজের পিছনে মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের কী অবর্ণনীয় কষ্ট, ত্যাগ, ঘাম জড়িয়ে আছে, তা শুধু ফতোয়া সংগ্রহের সাথে আমরা যারা মাঠপর্যায়ে যুক্ত ছিলাম তারাই জানি।
দ্বিতীয় অবদান, শাপলা চত্বরে হেফাজতের ঘটনার পর যখন এই দেশে কওমী মাদরাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতির আওয়াজ স্তিমিত হয়ে গেলো, তখন ‘স্বীকৃতি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন দাঁড় করিয়ে গোটা দেশ চষে বেড়িয়ে, প্রতিটি উল্লেখযোগ্য মাদরাসা সফর করে করে মুহতামিম সাহবেদের মাঝে তদবির করে এই স্বীকৃতির আওয়াজকে উচ্চকিত করা, যার ফলস্বরূপ মেলে কাঙ্ক্ষিত এই স্বীকৃতি। সেই ‘স্বীকৃতি বাস্তবায়ন পরিষদের’ প্রধান স্তম্ভ মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন। দীর্ঘকাল বিষয়টি চেপে রাখার চেষ্টা চালানো হলেও মাস কয়েক পূর্বে ঢাকা ইসলাহি ইজতেমায় ‘বাংলাদেশ জাতীয় দ্বীনী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড’ এর মহাপরিচালক মাওলানা আবুল কাসেম সাহেব তাঁর বক্তৃতায় মাওলানা মাকনুনের এই অবদানের কথা আলোচনা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
মাওলানা মাকনুনের তৃতীয় অবদান রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ভেতর সেবামূলক কাজ। অনেকেই জানেন না, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ভেতর সেই শুরু থেকেই যে কয়জন আলেমের অবদান ঈর্ষনীয়, তার অন্যতম মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বিপুল পরিমাণ সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ও ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের মাধ্যমে, এবং এর একক নেতৃত্বে ছিলেন সদরুদ্দীন মাকনুন। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এর মতো বিশাল সংগঠন তাদের বিরাট এই কাজে মাওলানা মাকনুনের একক নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেছে, বিষয়টি ভাববার। বিশেষত মাওলানা হাকীমুদ্দীন কাসেমীর মতো পোড় খাওয়া নেতা (বর্তমানে তিনি জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক) যখন মাওলানা মাকনুনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তখন এবিষয়ে আর কিছু বলার প্রয়োজন পড়ে না।
বিশেষভাবে যে অবদানটির কথা বলতে চাই, তা হলো মাওলানা মাকনুনের সভাপতিত্বে চলা সংগঠন ‘আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম’ এর মাধ্যমে মাধ্যমে গোটা দেশব্যাপী প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত কওমী মাদরাসার ছাত্রদের এ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রাম সম্পর্কে জানানো এবং মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা রাখা। এ যেন আল্লামা মাসঊদের বিখ্যাত মন্তব্য ‘মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মকে অস্বীকার করে এদেশে কোনো আন্দোলন সফল হবে না’-এর থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার বাস্তবায়ন।
প্রতিটি মানুষের কাছে মাওলানা মাকনুন নিজ যোগ্যতাবলে আস্থা ও নির্ভরশীলতার প্রতীক রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
মোটকথা, বর্তমানে শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.)-এর সকল সেক্টরের চিন্তা ও কাজে, প্রতিটি মানুষের কাছে মাওলানা মাকনুন নিজ যোগ্যতাবলে আস্থা ও নির্ভরশীলতার প্রতীক রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। ব্যক্তি মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন এর কথা যদি বলা হয়, তাহলে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) এর চরম বিরোধী লোকও এই সাক্ষ্য দেয় যে, বাবার মতোই মাওলানা মাকনুন আপাদমস্তক একজন ভদ্র ও সজ্জন ব্যক্তি। বেয়াদবি যখন তরুণ প্রজন্মের চারিত্রিক ভূষণে পরিনত হয়েছে, তখন তরুণ প্রজন্মের কাছে মাওলানা মাকনুন ভদ্রতা, সভ্যতা, সামাজিকতা ও সজ্জনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সবশেষে এ কথা বলাই যায়, শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) যে উত্তরসূরী নির্বাচন করেছেন, সেই নেতৃত্বের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখা যায়। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে, চির হীনমন্যতা আর ঈর্ষায় কাতর বাঙ্গালী যে কাউকে নেতৃত্বে দেখলে তাদের চুলকানি বেড়ে যায়, আর শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.)-এর উত্তরসূরীর ক্ষেত্রে তা আরও বেশি আকারে প্রকাশ পাবে—এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের আলেমদের যোগ্য নেতৃত্ব বিচারের কিছু হাস্যকর মাথামোটা অবাস্তব প্যারামিটারে তাকেও মাপা হবে, তবে এই সবকিছু ছাপিয়েই কারো স্নেহের ‘মাকনুন’, কারো ‘মিয়া ভাই’ আর কারো ‘ওস্তাদজী’ হয়ে মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন আপন আলোয়ে শায়খুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.)-এর লিগ্যাসি বহন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এই বিশ্বাস আমার আছে।
লেখক: তরুণ আলেম ও চিন্তক


