আল্লামা মাসঊদ চেয়েছিলেন হেফাজতের মামলা প্রত্যাহার

আল্লামা মাসঊদ চেয়েছিলেন হেফাজতের মামলা প্রত্যাহার

হেফাজতের মামলা নিয়ে নতুন করে তৎপর পুলিশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সম্পর্কের টানাপোড়েন যেনো চলছে হেফাজতে ইসলাম ও পুলিশ পশাসনের মধ্যে। নতুনভাবে চাঙা হচ্ছে হেফাজতে ইসলমের সেই পুরনো মামলা। পুলিশকে দেখা গেছে এসব মামলা নিয়ে নতুনভাবে তৎপর হতে। গত ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার ছয়টি প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচি শেষে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন হেফাজতের বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক। তাঁরা দিনভর বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে তখনকার সময় বেশ কিছু মামলা হয় নেতাকর্মীদের নামে।

জঙ্গিবিরোধী ইস্যু ও কওমী মাদরাসা সনদের বিষয়ে হেফাজত ও কওমীর অন্যান্য নেতাদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় সরকারের সঙ্গে দূরত্ব কমে আসে হেফাজতের। সাবেক হেফাজত নেতা আহমদ শফী তখন দুরন্ত নেতৃত্ব দিয়ে সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপনে অবদান রাখেন। এগিয়ে আসেন অন্য সীমানায় থাকা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদও। একমাত্রই তিনিই সনদ পরবর্তী শুকরিয়া মাহফিলে হেফাজত নেতাদের মামলা প্রত্যাহার চেয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আলেম উলামাদের হয়রানী করার জন্য যেকোনো সময় এ মামলাগুলো চাঙা করা হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র বলছে, হেফাজতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই চাননি মামলাগুলো শেষ হয়ে যাক। কারণ, আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর হেফাজতের মধ্যেই দেখা দিয়েছে ভাঙন। হয়েছে মামলাও।

এদিকে সাত বছর আগে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলাগুলো নিয়ে নতুন করে তৎপর হচ্ছে পুলিশ। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেতের পর হিমঘরে থাকা মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।

হেফাজত–সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ মনে করছেন, এতদিন হেফাজতের একটা অংশের সঙ্গে সরকারের এক ধরনের বোঝাপড়া ছিল। তাই মামলাগুলো চাপা পড়েছিল। এরই মধ্যে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। এরপর ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হেফাজতকে চাপে রাখতে মামলাগুলো সামনে আনা হচ্ছে।

এদিকে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর তিন মাস পর তাঁকে হত্যার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার হেফাজতের ৩৬ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা হয়। এই মামলাকেও ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ এবং ‘চাপে ফেলার কৌশল’ বলে দাবি করছেন হেফাজতের নেতারা। চট্টগ্রামের মামলায় ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসা হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকও রয়েছেন।

সরকারের নির্দেশ পেলে তদন্ত শেষ করে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মো. মাহবুব আলম, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার।
রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবি নিয়ে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ আলোচনায় আসে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওই বছরের ৫ মে ঢাকার ছয়টি প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচি শেষে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন হেফাজতের বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক। তাঁরা দিনভর বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। সূত্র বলছে, হেফাজত কর্মীদের জামাত-শিবিরই এ ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ আছে।

পরদিন ৬ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে হেফাজতের কর্মীদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের ২২ কর্মীসহ ৩৯ জন নিহত হন।

এসব ঘটনায় ঢাকাসহ সারা দেশে ৮৩টি মামলা হয়। এগুলোর মধ্যে ২২টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও বাকি ৬০ মামলার তদন্ত স্থবির হয়ে পড়ে। যেসব মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়, সেগুলোর বিচার কার্যক্রমও অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। বাগেরহাটের একটি মামলার রায় হয়, তাতে সব আসামি খালাস পান।

হেফাজতের নেতা-কর্মীরা এত দিন মনে করেছিলেন, যথাসময়ে হেফাজতের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *