পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী আন্দোলনের তোপে চট্টগ্রাম দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষা সচিব আল্লামা শাহ আহমদ শফির ছেলে মাওলানা আনাছ মাদানীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এশার নামাজের পর হাটহাজারী মাদরাসার শুরা সদস্যদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত ১০ টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার শুরা সদস্য ও মেখল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নোমান ফয়জী এ ঘোষণা পাঠ করে শোনান।
আল্লামা আহমদ শফী, শুরা সদস্য ও মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তক্রমেই মাওলানা আনাছ মাদানীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মাওলানা নোমান ফয়জী।
মাওলানা নোমান ফয়জী আরও জানান, হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা আনাস মাদানীকে অব্যাহতিসহ মোট তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুরা কমিটি। সেগুলো হলো- এখন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রদের কোনো রকমের হয়রানি করা হবে না এবং শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মজলিসে শুরার সব সদস্য মিলে বাকী সমস্যাগুলো সমাধান করবেন।
উল্লেখ্য, মাওলানা আনাস মাদানীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় বিক্ষোভ করেন ছাত্ররা।
বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে মাদ্রাসার ভেতরে অবস্থান নিয়ে প্রথমে দুই দফা দাবীতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ আন্দোলন শুরু করলেও বিকাল নাগাদ ছাত্রদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
দাবিগুলো হলো, এক. মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
দুই. ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা প্রদান ও সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
তিন. শায়খুল হাদিস আল্লামা আহমদ শফী অক্ষম হওয়ায় মহাপরিচালকের পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে।
চার. উস্তাদদের পূর্ণ অধিকার ও নিয়োগ-বিয়োগকে শুরার নিকট পূর্ণ ন্যস্ত করতে হবে।
পাঁচ. বিগত শুরার হক্কানী আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে।
এ সময় মাদ্রাসায় বাইরে বিপুল সংখ্যক র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তীব্রতা দেখে মাদ্রাসার আশপাশের দোকানদাররা তাদের দোকন-পাট বন্ধ করে দেয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
/এএ


