পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু বলে হয়েছে জানিয়েছেন সংগঠনটির বর্তমান আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি বলেন, ‘মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপর কোনো নির্যাতন হয়নি। তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।’
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় হাটহাজারীর দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচার, হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হেফাজত নেতাদের জড়িয়ে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আফছার আজাহারী।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য তোলে ধরা হলো- ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ, প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ! ঐতিহ্যবাহি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মিলনায়তনে আয়ােজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কষ্ট করে উপস্থিত হওয়ায় আপনাদের আন্তরিক মােবারকবাদ জানাচ্ছি।
আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র দীর্ঘ সময়ের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর ছিলেন।
তিনি হাটহাজারী মাদরাসাসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের কওমী মাদরাসা সমূহের মুরুব্বি ও অভিভাবক ছিলেন। তার ইন্তিকালে মাদরাসার সকল শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মকর্তাবৃন্দ গভীর শােকাহত। আমরা হযরতের দারাজাত বুলন্দির জন্য দেশবাসীর কাছে দুআ কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা হযরতকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ্ বাবুনগরী, দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা কমিটির সদস্য মাওলানা নোমান ফয়েজী, মাওলামা ইয়াহিয়া, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি জসিম উদ্দিন, হেফাজতের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরিসসহ হেফাজত নেতারা।
উল্লেখ্য, আহমদ শফী হত্যার অভিযোগে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকসহ হেফাজতের বর্তমান কমিটির ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গত ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ মামলা করেন আল্লামা আহমদ শফীর শ্যালক মাওলানা মাইনুদ্দিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।


