আল আহমার মসজিদটি এখন বার ও নাচঘর

আল আহমার মসজিদটি এখন বার ও নাচঘর

উচিতকাব্য । চৌধুরী আতিকুর রহমান

আল আহমার মসজিদটি এখন বার ও নাচঘর

উত্তর ইসরাইলের সাফাদ একদা ফিলিস্তিন আরব অধ্যুষিত শহর ছিল। একদা সেখানে ১২ হাজার ফিলিস্তিনি মুসলিম বসবাস করত, ১৯৪৮-এ এদের বাধ্য করা হয়েছিল সাধের শহরটি ছেড়ে চলে যেতে। সেখানে দ্বাদশ শতকের আল আহমার বলে একটি মসজিদ ছিল।

বেশ রূপকথার মত শুনতে লাগছে না? তবে আমি রূপকথা বলতে বসিনি, নিষ্ঠুর ও ভন্ডামি পুর্ণ বাস্তব জগতে টেনে আনব।

তবে শুনুন, আয়া সোফিয়া অর্থোডক্স গির্জা ছিল, ১৪৫৩ থেকে মসজিদ, ১৯৩৪-এ হল জাদুঘর, আবার ২০২০-র জুলাইয়ে মসজিদে পরিণত হয়েছে। লাল পাথরের তৈরি সাফাদের আল আহমার মসজিদটির সে সৌভাগ্য হয়নি। প্রথমে হল ইহুদি ধর্ম কেন্দ্র, তারপর ইসরায়েলি খাজিমা দলের নির্বাচনী অফিস, তারপর বস্ত্র বিপণন কেন্দ্র, ২০১৯ থেকে বার কাম নাচঘর, নাইটক্লাব।

ইহুদিদের ধর্মে মতি নেই, তবে কট্রর অংশটির সব ব্যাপারেই পা (হিন্দিতে টাং) আড়ানোর অভ্যেস আছে। এরা কট্টর, না বলিয়া অন্যের দ্রব্য আহরণে, এদের ধর্মে মতি নেই, অনেকটাই ধর্মনিরপেক্ষ। এই ধর্মনিরপেক্ষদের পাল্লায় পড়ে আয়া সোফিয়া ৮৬ বছর জাদুঘর ছিল। এই সময়টুকু বাদ দিয়ে বেশিরভাগ সময়ই কোন না কোন ধরনের ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপাসনা কেন্দ্র ছিল। ভণ্ড ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে নতুন একটি ধর্ম। কিন্তু আল আহমার ইহুদি মন্দির হয়েও ইহুদিরা ধরে রাখতে পারেনি, প্রথমে পার্টি অফিস, বিপণন কেন্দ্র, সর্বশেষে ইসলামের চরম বিরোধী মদ্যপান কেন্দ্র (Bar), নাচ ঘর ও নাইট ক্লাব হল।

সফাদের বাসিন্দা মুস্তাফা আব্বাস বলেছেন, ‘আল আহমার নামটি হওয়ার কারণ হল মসজিদটি লাল পাথরের তৈরি বলে। আটচল্লিশের পর থেকে মসজিদটিতে সবকিছুই হয়েছে মুসলিম উপাসনা কেন্দ্র বাদে’।

রূপকথা নয়, আরও বাস্তব হল ফিলিস্তিনি মুসলিম ওয়াকফ কমিটির সেক্রেটারি খায়ের তাবেরি
বলেছেন, মসজিদটি মুসলিম ওয়াকফ কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নাজারেথ আদালতে একটি আইনি লড়াই চলছে। মসজিদের দাবি জানিয়ে মামলা করার পরই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই আইনি লড়াই শেষ হওয়ার আগেই মসজিদটিকে বারবার অপবিত্র করা হচ্ছে। মসজিদের মিম্বার এলাকায় খোদিত কোরআনের বাণী গুলিকে ভেঙ্গে মুছে দিয়ে সেখানে হিব্রুতে টেন কমান্ডমেন্টস- এর বাণী গুলি লিখে দেওয়া হয়েছে।

মামলুক সুলতান আজ জাহির অল বাইবার্স ১২৭৬ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এখন হয়েছে কি? মুসলিমরা তাদের পুরনো উপাসনা গৃহের কাছেই ঘেঁষতে পারে না। দুষ্কৃতিকারীরা (যায়নবাদীরা) তাড়া করে। এসব এলাকায় মসজিদ গুলিকে এই ভাবেই অপবিত্র করা হয়েছে। ১৩১৯ সালে নির্মিত গ্রীক মসজিদটি এখন আর্ট গ্যালারিতে পরিণত হয়েছে।

যদিও বলা হয়েছে, ২০১৯-এর এপ্রিলের প্রথমে মসজিদটির বার কাম নাচঘর রূপান্তর এর ফলে মুসলিম জগৎ আর ধর্মনিরপেক্ষ জগৎ রৈ রৈ কাণ্ড ঘটাবে। আসলে কিছুই ঘটেনি, হয়ত কিছু ঘটেছে আমাদের কানে এসে পৌঁছায় নি। মুসলিম না হয় আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন নিয়ে এতটাই ব্যস্ত এবং আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদ ও মসুলের নুরি মসজিদের মত মসজিদে বোমাবাজি নিয়ে এবং মব লিঞ্চিং, ছদ্ম সেকুলারদের বোমাবাজিতে প্রাণ বাঁচানো নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে এসব খবরে কান দিতে পারেনি। কিন্তু ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা যতটা সোফিয়ার রূপান্তর নিয়ে চিৎকার করে যাচ্ছে ততটা কিন্তু ধ্বংস হয়ে যাওয়া ও রূপান্তরিত মসজিদগুলিকে নিয়ে এরা চিন্তা করে না।

আবার বলি, ধর্মনিরপেক্ষতাও কোন কোন ক্ষেত্রে নিজে একটা ধর্ম হয়ে যায়।

লেখক : পশ্চিমবঙ্গের কলামিস্ট

সূত্র : মিডলইস্ট নিউজ মনিটর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *