আসাম বন্দীশালায় কেবল মুসলিম আটকে রাখার ষড়যন্ত্র : মাহমুদ মাদানী

আসাম বন্দীশালায় কেবল মুসলিম আটকে রাখার ষড়যন্ত্র : মাহমুদ মাদানী

আসামবন্দীশালায় কেবল মুসলিম আটকে রাখার ষড়যন্ত্র : মাহমুদ মাদানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: ভারতের নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট এনআরসি বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দেয়া বক্তব্যের নিন্দা করেছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল মাহমুদ মাদানী। তিনি বলেন, অমিত শাহর বক্তব্যে বোঝা যায় আসামের ক্যাম্পগুলোতে শুধু মুসলমানদের বন্দী করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যদি এমন ঘটনার অবতারণা হয় তাহলে বিশ্বে ভারতেরই দুর্নাম হয়ে যাবে।

মাহমুদ মাদানী বলেন, ভারত সবার, এখানে সবাইকে একই ছাদের নিচে সমানভাবে থাকার অধিকার দেয়া হয়েছে। দেশের প্রকৃত এই নাগরিকদের অবস্থানকে সন্দেহপোষণ করা, তাদেরকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলা- এমন কটূবাক্য বলে অসমীয়দের দুর্বল ভাবা ধর্ম ও দেশের জন্যই ক্ষতিকর ও কলঙ্কের।

ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দেয়া বক্তব্যের নিন্দা করে জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল মাহমুদ মাদানী বলেন, ভারতের স্বাধীনতা দস্তুর বিরোধী অমিত শাহর বক্তব্য। রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো মানুষের পক্ষে এমন অমানবিক বক্তব্য আশা করা যায় না। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনোরকম বিভিন্নতা সৃষ্টি করা ভারতীয় সংবিধানের ১৪ ও ১৫ ধারার সম্পূর্ণ বিরোধী। মুসলমানের বিরুদ্ধে জাতিগত বিরোধিতার নামান্তর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্যে এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, আসামের বন্দীশালায় শুধু মুসলমানই বন্দী করা হবে। এমন হলে সত্যিকার অর্থেই ভারত দুর্নামের মধ্যে পড়বে। নিন্দার ঝড় উঠবে।

অনুপ্রবেশ ঠেকানোর কৌশল জানাতে গিয়ে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, যদি সরকার অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে চায় তাহলে কোনোধরনের অনুপ্রবেশকারীর জায়গা যেনো না হয়। আর যদি মজলুম জাতির উপর সহমর্মিতা থাকে আর তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার ইচ্ছে থাকে, যদি আশ্রয় দিতে চান কেবল মুসলমান হওয়ার জন্য কোনো বাধা হতে পারে না। অমুসলিমদের সঙ্গে অন্যান্য মজলুম রোহিঙ্গাদেরও আশ্রয় দিতে হবে।

ভারতের নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট নিয়ে কাজ করা দোষের কিছু নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্যে বোঝা যায় যে, একটি নির্ধারিত জনগোষ্ঠীকে তিনি নিশানা বানাতে চান। যার মাধ্যমে দেশে পারস্পরিক হৃদ্যতা কমে যাচ্ছে, দেশের সংখ্যালঘুর উপর সন্দেহ ও আক্রমণ বাড়ছে।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : দিল্লী ইনকিলাব

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *