আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আসামে জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন (এনআরসি) প্রক্রিয়ায় থাকা বাঙালি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘের চার বিশেষ দূত একথা জানিয়েছেন। খবর সাউথ এশিয়ান মনিটরের।
খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের বিশেষ দূত এনআরসি নিয়ে ওই রাজ্যের বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ ও শঙ্কার বিষয় উল্লেখ করেছেন। ১১ জুন লেখা চিঠিটিতে বলা হয়, মুসলিম ও বাঙালি বংশোদ্ভূতদের প্রতি বিশেষভাবে বৈরী আসামের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কৌশলের আশ্রয় নিয়ে অনেক প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককে হালনাগাদ করা এনআরসি থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ওই চার কর্মকর্তা জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার হিসেবে কাজ করেন। তারা সংখ্যালঘু ইস্যু, বর্ণবাদ, জাতিবিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করেন।
অনলাইন প্রকাশিত চিঠিটিতে তারা ৬০ দিনের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে জবাব চেয়েছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় ওই হালনাগাদের কাজ চলছে। ৩০ জুন চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ করার কথা। তবে আসামের বর্তমান বন্যার কারণে তা বিলম্বিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। এছাড়া, আসামে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের শনাক্ত করার ব্যাপারে ব্যাপক আমলাতান্ত্রিক নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে চিঠিটিতে উল্লেখ করা হয়েছ।
এতে আরো বলা হয়, চূড়ান্ত এনআরসি থেকে কাদের বাদ দেওয়া হবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি প্রকাশ করা হয়নি। বলা হচ্ছে, যাদের নাম তালিকায় থাকবে না, তাদের বিদেশী হিসেবে শনাক্ত করে নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। তারপর তাদেরকে বিদেশী হিসেবে আদালতে গিয়ে নিজেদের নাগরিকত্বের বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে।
এদিকে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। চিঠিতে গত ডিসেম্বরে স্থানীয় এক মন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। ওই মন্ত্রী বলেছেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশীদের’ বহিষ্কার করার জন্যই তালিকাটি হালনাগাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যাদের নাম তালিকায় দেখা যাবে না, তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে।


