আহলান সাহলান মাহে রমাদান
মুহাম্মদ আইয়ূব ❑ দেখতে দেখতে আবারো চলে আসল রহমত, বরকত ও নাজাতের মহিমান্বিত মাস ১৪৪১ হিজরীর রমজানুল মুবারক। ছোটবেলা থেকে গত রমজান পর্যন্ত প্রতিবারই ‘মাহে রমজানের আহবান বা ডাক’ শিরোনামের পোস্টার দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো দেখেছি। কিন্তু এবার আর চোখে পড়ছে না এমন পোস্টার। কারণ হলো, যে সকল আহবানের লক্ষ্যে পোস্টারগুলো লাগানো হত সে আহবানের কাজ এ বছর করোনা ভাইরাসে সেরে দিচ্ছে। এ বছর আর কোন মুসলমানকে রোজা রাখার আহবান করা দরকার নাই। যে যুবক, অতীতে ভুলে ভুলে রোযা রাখত না এবার সবাই মিলে যুবককে জোর করে রোযা ভাঙ্গাতে চাইলেও ইম্পসিবল।
হোটেল রেঁস্তোরা একদম অফমুডে চলে গেছে। অনমুডে হাজার হাজার টাকা খরচ করে আনতে চাইলেও কাজ হবে না, মুডঅফ তো অফই। করোনা ভাইরাস না সরলে আর অন হবে না। আর গান বাজ না? প্রশ্নই আসে না! যাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে বিগত রমজানগুলোতে দেশে দেশে, শহরে, নগরে, বন্দরে, পাড়া মহল্লায় রমজানের দিনে দুপুরে, সন্ধ্যায় নাচ, গান, অশ্লীলতার আসর বসত তারা এবার করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে পীর বুজুর্গদের পথ ধরবে নিঃসন্দেহে। আহ! এরা যদি ডলা খাওয়ার আগেই ভাল হয়ে যেত! তাহলে বলা যেত এ সব আল্লাহর ভয়ে। যাকগে ওসব।
এটা ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্য্য এমন একটি গুণ যার প্রতিদান হল জান্নাত।
হযরত সালমান ফারিসী (রা.) বলেন, একবার শাবান মাসের শেষ দিন রাসূল (সা.) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দান করলেন। রাসূল (সা.) বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের উপর এক মহান মাস এক কল্যাণময় মাস ছায়া বিস্তার করেছে। এটা এমন মাস, যাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেয়। আল্লাহ তাআলা [তোমাদের জন্যে] এ মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং রাতে নামাজ পড়াকে নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর [নৈকট্য] চেয়ে একটি নেক কাজ করবে সে ঐ ব্যক্তির সমান হবে, যে অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করেছে। এটা ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্য্য এমন একটি গুণ যার প্রতিদান হল জান্নাত। এটা পারস্পরিক সহানুভূতির মাস। এটা ঐ মাস যাতে মুমিন ব্যক্তির রিযিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে ইফতার করাবে এটা তার পক্ষে তার গুনাহসমূহের জন্যে ক্ষমা সরূপ হবে এবং তার নিজেকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে বাঁচার কারণ হবে। আর তাকে রোজাদারের সমান ছওয়াব দান করা হবে; এতে তার ছওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবেনা।
হযরত সালমান (রা.) বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিতো এমন সামর্থ্য রাখেনা,যা দ্বারা রোজাদারকে ইফতার করাতে পারে? তখন রাসূল (সা.) বললেন,আল্লাহ তা’আলা এ ছওয়াব ঐ ব্যক্তিকেও দান করেন যে কোন রোজাদারকে এক ঢোক দুধ দ্বারা, একটি খেজুর দ্বারা অথবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করায়। যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে পরিতৃপ্তির সাথে ভোজন করায় আল্লাহ তা’আলা তাকে আমার হাউজ [কাউসার] হতে পানীয় পান করাবেন। ফলে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। এটা এমন একটি মাস- যার প্রথম অংশ রহমত, মধ্যম অংশ ক্ষমা এবং শেষ অংশ জাহান্নাম হতে মুক্তির। যে ব্যক্তি এ মাসে নিজের দাস-দাসীদের কর্মভার হালকা করে দিবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং জাহান্নাম হতে মুক্তি দান করবেন। (মেশকাত শরীফ হাদিস নং ১৮৬৮)
রমজান আসছে সুযোগ নিয়ে, অফার নিয়ে। এবার সিদ্ধান্ত আমার আর আপনার। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জান্নাতে যাব নাকি শয়তানের সাথে সঙ্গ দিয়ে দুনিয়া আখেরাত বরবাদ করব!!!
[দেশ ও দশের জন্য আর কয়েকটি দিন ঘরে থাকুন সতর্ক থাকুন সবাইকে বাঁচতে দিন। বেশি বেশি দোআ, তওবা ইস্তিগফার কান্নাকাটি করুন,মাহে রমজানের প্রস্তুতি নিন।]
লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


