ইতিকাফের মাহাত্ম্য | মুফতি রিয়াজুল ইসলাম

ইতিকাফের মাহাত্ম্য | মুফতি রিয়াজুল ইসলাম

ইতিকাফ আরবি শব্দ ‘আকফ’ মূলধাতু থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা। যে মসজিদে জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়, এমন মসজিদে আল্লাহর ইবাদতের নিয়তে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। এর উদ্দেশ্য, মসজিদে বসে আল্লাহর আনুগত্য, সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভের আকাঙ্খা, সওয়াব অর্জনের প্রত্যাশা এবং লাইলাতুল কদর লাভের আশা করা। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামও ইতিকাফ করতেন।

ইতিকাফের ফযিলত : হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করবে সে দুটি ওমরাহ ও দুটি হজ আদায় করার সওয়াব পাবে’। (বুখারি শরিফ)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল পাক (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর এবং জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তিনটি পরিখার দূরত্ব সৃষ্টি করবেন, প্রত্যেক পরিখার প্রশস্ততা দুই দিগন্তের চেয়েও বেশি। (বায়হাকি)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ইতেকাফকারী নিজেকে পাপ থেকে মুক্ত রাখে এবং তাঁর জন্য পুণ্যসমূহ জারি রাখা হয়।-(মিশকাত)

আলী বিন হোসাইন রা: নিজ পিতা থেকে বর্ণনা করেন, মহানবী সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ১০ দিন ইতিকাফ করে, তা দুই হজ ও দুই ওমরার সমান’ (বায়হাকি)।

ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, মহানবী সা: বলেছেন, ‘ইতিকাফকারী গুনাহ থেকে বিরত থাকে। তাকে সব নেক কাজের কর্মী বিবেচনা করে বহু সওয়াব দেয়া হবে’ (ইবনে মাজাহ)।

ইতিকাফের সবচেয়ে বড় উপহার হল লাইলাতুল কদর নিশ্চিত পাওয়া।

লেখক : সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ, ঢাকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *