ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শাটডাউনের কবলে যুক্তরাষ্ট্র

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শাটডাউনের কবলে যুক্তরাষ্ট্র

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শাটডাউন চলছে। জানা যায়, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এই শাটডাউন চলছে। এতে করে মার্কিন সরকারের লাখ লাখ কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কর্মীদের মধ্যে এফবিআই এজেন্ট থেকে শুরু করে জেলখানা পাহারার কর্মীরাও রয়েছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান শাটডাউন ১৯৯৫-৯৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অধীনে ২১ দিনের শাটডাউনের রেকর্ডকে শনিবার পেছনে ফেলেছে। মেক্সিকো দেয়াল নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের অসংখ্য বিভাগ ও সংস্থায় অচলাবস্থা দেখা দেয়।

অচলাবস্থা নিরসনে বুধবার ডেমোক্র্যাট নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু সেই বৈঠক ওয়াক-আউট করেন তিনি। হাউজ স্পিকার ন্যান্সী পেলোসী এবং সিনেট সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমার মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ না করার ব্যাপারে আগের অবস্থানে অটল থাকলে ট্রাম্প আলোচনা থেকে বেড় হয়ে আসেন।

হাউজ স্পিকার ন্যান্সী পেলোসী বলেছেন, বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারাটা একই সঙ্গে আরেকটা ক্ষতি। প্রেসিডেন্ট মনে হচ্ছে তাদের প্রতি অসংবেদনশীল হচ্ছেন। তিনি (ট্রাম্প) হয়তবা মনে করছেন তারা তাদের বাবার কাছে অর্থ চাচ্ছেন। চাক শুমার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পেলোসী যখন দেয়াল নির্মাণের বিষয়ে অর্থ বরাদ্দে অনুমোদন দিতে রাজি হননি তখনি প্রেসিডেন্ট আলোচনার মাঝখানে উঠে চলে যান।

এর আগে ট্রাম্প স্পিকার পেলোসীকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কী আমার দেয়াল নির্মাণের ব্যাপারে রাজী আছেন? জবাবে স্পিকার বলেন ‘না’। এরপরই ট্রাম্প বৈঠক থেকে বের হয়ে আসেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ বাবদ ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৫৭০ কোটি ডলার পাস করাতে চান। এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অকার্যকর বলে মনে করছেন ডেমোক্রেটরা।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি যেকোনো মূল্যে দেয়াল নির্মাণ করবেন। তবে ডেমোক্রেটরা বলছেন, তারা জনগণের করের টাকায় এ প্রতিশ্রুতি পূরণ হতে দেবে না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *