ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই : বিশেষজ্ঞদের মতামত

ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই : বিশেষজ্ঞদের মতামত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পুরো বিষয় দেখে আশ্বস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালটেক-এর সাবেক বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম কায়কোবাদ। তাঁরা বলেছেন, এটা অত্যন্ত চমৎকার মেশিন। এখানে ম্যানিপুলেশন (কারচুপি) করার জায়গা নেই।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আজ বুধবার ইভিএম বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা করেছেন দেশের বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইভিএমের পুরো বিষয় খতিয়ে দেখার পর দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের পক্ষে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক এম কায়কোবাদ কথা বলেন।

জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইভিএম বিষয়টি পুরোটা দেখেছি। তার ভেতরে যে টেকনিক্যাল বিষয় আছে সেটাও তাঁদের (ইসির কর্মকর্তা) কাছ থেকে জেনে নিয়েছি। সর্বশেষ তাঁরা আমাদের জন্য একটি মেশিন খুলে রেখেছিলেন, যাতে ভেতরে ঢুকে আইসি লেভেলে দেখতে পারি, কেউ যদি এটি ম্যানিপুলেট করতে চায় কতটুকু কঠিন হবে বা কতটুকু সোজা হবে সে ধারণা পাওয়া জন্য।’

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কনভিন্সড হয়েছি। এটা অত্যন্ত চমৎকার একটি মেশিন। যেহেতু আমাদের বায়োমেট্রিক ডেটা আছে, সে জন্য ভোট দেওয়া অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করা সম্ভব, একজন মানুষ অন্যজনের ভোট দেওয়া মোটামুটিভাবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি আমাদের দেশের জন্য পারফেক্ট একটি মেশিন। অত্যন্ত সহজভাবে এটা চালানো সম্ভব।’

ইভিএমকে শতভাগ বিশ্বাস করা যায় কি না—এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘যদি যন্ত্র হয়, সেখানে কখনোই বলবেন না বা বলা উচিত না, শতভাগ হবে। কিন্তু আমরা বলতে পারি যে এটি কতটুকু পারফেকশনে পৌঁছেছে। এখানে একটি সমস্যা হলে ঠিক করার ব্যবস্থা আছে কি না। এখানে বিভিন্ন স্তরে ডেটা রক্ষা করার ব্যবস্থা আছে। ম্যানিপুলেশন করার জায়গা আপাতত নেই। ম্যানিপুলেশন করতে হলে যে লেভেলে যেতে হবে, সেই লেভেলে যাওয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়।’

ড. জাফর ইকবাল আরও বলেন, ‘কেউ বিশ্বাস করবে কি না, সেটা তাদের ব্যাপার বা রাজনৈতিক ব্যাপার। আমি কারিগরি বিষয়টি বলছি। কারিগরি দিক থেকে এটি ম্যানিপুলেট করার সম্ভাবনা নেই। যেকোনো জিনিস ম্যালফাংশন করতেই পারে। যেকোনো যন্ত্র ম্যালফ্যাংশন করতে পারে। যদি ম্যালফাংশন করে সেটাকে রিপ্লেস করার ব্যবস্থা রেখেছেন তাঁরা।’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম কায়কোবাদ সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএমে কোনো ম্যানিপুলেশনের মোটেই সুযোগ নেই। এর প্রতিটি অংশ এমনভাবে কাস্টমাইজ করা হয়েছে, একজন ইচ্ছা করলেই সেখানে পরিবর্তন করতে পারবে না।

এম কায়কোবাদ বলেন, ‘আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট দক্ষ, তাঁদের আমরা বিশ্বাস করতে পারি। এই প্রকল্পের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের যে আত্মবিশ্বাস ও ওনারশিপ, সেটা আমি নিশ্চিত হয়েছি। এটি একটি ভালো মেশিন তৈরি করা হয়েছে। আমি আশা করি, এটা ডিসপ্লে (প্রদর্শনী) করা হবে। যেকেউ এসে এটা টেস্ট করতে পারবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *