পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকমের অনিয়ম অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দুদকের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দুই সদস্যের কমিটিতে একজন সহকারী পরিচালক এবং একজন উপ-সহকারী পরিচালক রয়েছেন। এই দুই সদস্যের কমিটি ইভ্যালির অনিয়ম অনুসন্ধানে কাজ করবে। শিগগিরই কমিটি তাদের কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের থেকে অগ্রিম নেওয়া ইভ্যালির ৩৩৯ কোটি টাকার কোনো হদিস মিলছে না। এ অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তদন্ত সাপেক্ষে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ৪ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে চার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ইভ্যালি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করা পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা। গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে ২১৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের থেকে বাকিতে পণ্য বাবদ ১৯০ কোটি টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪০৪ কোটি টাকা থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা।
চিঠিতে এসব তথ্য উল্লেখ করে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আর্থিক অনিয়ম পেলে দুদককে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, এর আগে দুদকও গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করাসহ নানা অভিযোগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে।


